হোমপেজ সারা বাংলা উত্তরার পর রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও সিলগালা

উত্তরার পর রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও সিলগালা

90
0

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা, টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের পর এবার তাদের মিরপুর শাখাটি সিলগালা করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম শাখাটি সিলগালা করে দেন।

সিলগালা শেষে সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হতো। এছাড়াও নানা অভিযোগ রয়েছে। এজন্য হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাতে ৪৫ লাখ টাকা ভাড়া বাকি রেখেছে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সাহেদ। পাওনা ভাড়া চাওয়া হলে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় বলে র‍্যাবের কাছে অভিযোগ করেছেন ভবনটির মালিক ফিরোজ আলম চৌধুরী।

ভবনের মালিক ফিরোজ আলম চৌধুরী বলেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে রিজেন্ট হাসপাতাল মিরপুর শাখার জন্য এ ভবনটি ভাড়া নেন। একপ্রকার জোর করেই তিনি ভবনটিতে হাসপাতাল করেন। শুরু থেকেই ভাড়া নিয়ে অনিয়ম ছিল। ভাড়া চাইলে তিনি হুমকি-ধামকি দিতেন। এই ভাড়া উঠানোর জন্য আমি থানাতে ২০১৮ সালের ২০১৯ সালে দুটি জিডি করি। এক পর্যায়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই কিন্তু কোনোভাবেই ভাড়া উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এখনো ৪৫ লাখ টাকা পাই।

রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাসপাতালটি করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করত। হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় করেছে । রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়। রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত শ দুয়েক কোভিড রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের তারা কোভিড পরীক্ষা করবে বিনা মূল্যে। কিন্তু তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা না করেই আরও তিন গুণ লোকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করে। এসব অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে চুক্তি ভঙ্গ করে করোনা রোগীদের থেকে বিল আদায়, টেস্ট না করে ভুয়া সনদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একই অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখায় অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেয় র‌্যাব।

প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। আটজনকে আটক করা হয়েছে। সাহেদসহ নয়জন পলাতক রয়েছেন।

এদিকে র‌্যাব জানিয়েছে পলাতক সাহেদকে ধরতে এরই মধ্যে র‌্যাবের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। সাহেদ যাতে কোনো অবস্থায় দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে