হোমপেজ অপরাধ ত্রিশালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনঠাসা করতে ষড়যন্ত্র!

ত্রিশালে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কোনঠাসা করতে ষড়যন্ত্র!

331
0

মোঃ কামাল হোসেন : ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, থানা পুলিশ তথা সরকারি কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ও কোনঠাসা করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে একই মহল। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ বাবৎ এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে চক্রটি।

অভিযোগ রয়েছে, ত্রিশালে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলে আসছে বেনামী অভিযোগের কারবার। কখনো বিভিন্ন সংগঠনের জাল প্যাডে, কখনো ভুয়া ব্যক্তির নামে পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ। আবার একইভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় তাদের বিরুদ্ধে। বেনামে কিংবা ভুয়া অভিযোগের ফাঁদে পড়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ বেনামি অভিযোগের তদন্তের চিঠি চলে আসে দ্রুত গতিতে।


সে তদন্ত ঠিক মত চলে কিনা তার মনিটরিংও চলে দ্রুত। অভিযোগ আসল নাকি নকল তা যাচাই হতেও সময় লাগে। এমন ভুয়া অভিযোগে কাউকে হয়রানি করা দুঃখজনক বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল। তদন্তকালে ভুয়া আবেদনকারীদের নামের কোন ব্যক্তির হদিস মিলেনা। উল্লেখিতদের মোবাইল নম্বরেও পাওয়া যায়না কাউকে।


ত্রিশালের সচেতন মহলের দাবী, এর মাধ্যমে ত্রিশালের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে ত্রিশালকে অস্থিতিশীল করতে চায় ঐ অশুভ মহল। এদের লক্ষ্য অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভুক্তভোগীদের বেকায়দায় ফেলা। ত্রিশালের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রগতি রুখতে স্বার্থান্বেষী ঐ মহলটি ফেসবুকেও তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এই সহজ পথটি অর্থাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর পথ বেছে নেয়।


সরকারি কর্মকর্তাদের নামে এমনভাবে দুর্নীতি অনিয়ম উল্লেখ করছে অপপ্রচারকারিরা যা কেও ভাববে যেন মারাত্বক। এর কোনোটির সঙ্গেই বাস্তবের প্রেক্ষাপটের মিল নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে প্রথমে তদবির করতে যায় ঐসব তদবিরবাজরা। বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের টাকা আত্বসাত করার প্রস্তাব দেয়।


প্রতিবাদ করা হলে বদলীর হুমকি দেয়া হয়। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় তার একটি দালাল বাহিনীর মাধ্যমে এসব করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নেতার কথায় না চললেই নানান ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ত্রিশাল থানাতেও রয়েছে এদের আধিপত্য বিস্তারের কার্যক্রম। থানায় অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য রয়েছে এদের তদবির। পুলিশ কর্মকর্তারাও প্রতিবাদ করলে একইভাবে বেনামী অভিযোগ করা হয়।
ক’দিন যাবৎ কয়েক কর্মকর্তাদের বদলীল জন্য ভুয়া নামে বেনামে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে বলে বলে শুনাগেছে। যুব উন্নয়ন অফিস দখল করে রেখেছে চক্রটি। কল-কারখানা, বালি উত্তোলনে চাঁদাবাজিও করছে চক্রটি। এসব করে চক্রের সদস্যরা কোটি কোটি টাকার মালিক। মাদক ব্যবসাও এই চক্রটির হাতে।


প্রতিবাদ করলে পুলিশকেও বদলী করা হয়। জানা গেছে, ত্রিশালে যোগদান করার পরপরই কর্মকর্তাদের ঐ সব তদবিরবাজ চক্র তাদের বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। না গেলেই বদলী করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, যতদিন চাকুরি করব তা হবে সততার সাথে। কারো বাসায় যাবো না। সেক্ষেত্রে বদলী করা হলেও কিছু করার নেই। মেনে নেব।


সচেতন মহল মনে করেন, এ অবস্থা উত্তরণের জন্য পুলিশ ও প্রসাশনকে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ষড়যন্ত্রকারী চক্র অর্থাৎ এইসব অপরাধীরা শাস্তি পাক এতে কর্মকর্তা এবং জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলুক এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে