হোমপেজ অপরাধ ইউএনও‘র ফোন নাম্বার, জানেই না উপজেলা প্রশাসন

ইউএনও‘র ফোন নাম্বার, জানেই না উপজেলা প্রশাসন

74
0
smart

বাইরে থেকে কুষ্টিয়ায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না- জেলা প্রশাসনের এমন নির্দেশনায় জেলার প্রবেশপথে জোরদার করা হয়েছে পুলিশি টহল। এ অবস্থায় জেলার অন্যান্য প্রবেশপথগুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো ফোন নাম্বার না থাকলেও কুষ্টিয়ার খোকসার প্রবেশমুখ শিয়ালডাঙ্গী-বিলজানির পুলিশের চেকপোস্টের সড়কের সাপোটিং পিলারে খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি নাম্বার সাঁটানো হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) সকালে সরেজমিনের গেলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এ দৃশ্য দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক পিলারে টানানো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি নাম্বারে প্রায় ১০ চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি। ফোন ব্যস্ত!

এ ব্যাপারে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারীর কাছে ফোন দিয়ে জানা যায়, সরকারি নাম্বারে বারবার ফোন আসছে। তাই নাম্বার ব্যস্ত দেখাচ্ছে।

এ ঘটনায় নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করলেন খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরীন কান্তা দৈনিক অধিকারকে বলেন, বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করা করোনার জন্য আমাদের কাজ বেড়ে গেছে শতগুণ। সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রতিদিনই আমার দপ্তরে অসহায় মানুষ আসছে খাবারের জন্য। তার উপর ত্রাণ বিতরণ ঠিকঠাক হচ্ছে কী না সেটাও মনিটরিং করা লাগে। সব সময় জেলা প্রশাসকের অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা লাগে। আবার কর্মহীনদের আর্থিক প্রণোদনার ব্যাপারেও নানা ব্যস্ততা রয়েছে।

তার দপ্তর থেকে এই নোটিশ লাগানো হয়েছে কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার দপ্তর থেকে এমন কোনো নোটিশ লাগানো হয়নি।

কী ধরনের হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, আসলে আমি আগেই বলেছি, আমাকে সবসময় ব্যস্ত থাকতে হয়। ওইখানে আমার সরকারি নাম্বার টানানোর ফলে আমাকে ফোনে নানা ধরনের রিকোয়েস্ট আসছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা পড়ছে।

তবে একজন দায়িত্বশীল ব্যস্ততম অফিসারের নাম্বার দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার সব্বোর্চ মর্যাদার ওই কর্মকর্তা। ফলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে তার। এ অবস্থায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রমের গতি কমে গেছে বলে জানান তিনি।

সকালে ওই চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন খোকসা থানার এসআই আমজাদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও চৌকিদার। চেকপোস্টে পুলিশের কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় কেউ ঢোকার জন্য অনুরোধ করলে তারা পিলারে টানানো নোটিশের নাম্বারে ফোন দিতে বলছে। তাদের প্রশ্ন করা হলে- এসআই আমজাদ এ ব্যাপারে কিছু না জানার কথা বললেও একজন পুলিশ সদস্য বলেন- এটা থানা থেকে লাগানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল আলম দৈনিক অধিকারকে বলেন, আসলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। এটা পুলিশের একার পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব। আর আমরা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তাদেরকে ছাড়তে পারি না। এটা ছাড়ার অনুমতি দিতে পারেন উপজেলা প্রশাসন।

অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য এটা টানানো হয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, আসলে করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পুলিশ বহিরাগত কোনো মানুষকে ছাড়ছে না। আর কেউ অনুরোধ করলে যাতে উপজেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে পারে সহজেই। সেজন্য এমন নোটিশ। তারা যাতে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেন- উপজেলা প্রশাসনের কাছে। সেজন্যই তার নাম্বার দেওয়া হয়েছে।

এই নোটিশটির লাগানোর ব্যাপারে ইউএনও কিছু জানেন না কী- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউএনও না জানলে এটা কীভাবে আছে।

তবে ইউএনও বলছেন- পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বা তার কোনো অনুমতিও নেয়নি কেউ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে