হোমপেজ সারা বাংলা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ

108
0

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জেলায় একটি মানবিক পুলিশ উপহার দিতে কাজ করছেন নিরলসভাবে। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৫ সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসহায় দুস্থের মাঝে বিলিয়েছেন মানবিক সহায়তা। এই দুঃসময়ে বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার মানুষকে সরকার সহযোগিতা করছে। তবে সাহায্য না পাওয়া হতদরিদ্র দুস্থদের খুঁজে খুঁজে বের করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ দিচ্ছে মানবিক সহায়তা। পুলিশ সুপার বলেন, পবিত্র ঈদে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজনের জন্য কেনাকাটা করবেন না। ঈদে কেনাকাটার টাকা, উৎসবভাতা ও রেশনের টাকাসহ ব্যক্তিগত সহযোগিতার সমন্বয়ে জেলা পুলিশ একটি ফান্ড তৈরি করেছে। সেই ফান্ড থেকে সমাজের নিম্নস্তরের দুস্থদের মানবিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দ একটি টিম নিয়ে রাতদিন অসহায় দুস্থদের ঘরে ঘরে মানবিক সহায়তা নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, জেলা পুলিশের সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, মাস্ক বিতরণ, হাত ধোয়ানো, পুলিশ ফোর্সের মাঝে মাস্ক বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, পুিলশ আবাসনে জীবাণুনাশক স্প্রে, এসকে হাসপাতালে পিপিই বিতরণ, জেলা পুলিশের উদ্যোগে গান পরিবেশনার মাধ্যমে সচতেনতা বৃদ্ধি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা। এ ছাড়াও সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানো হচ্ছে। পুলশি সুপারের ব্যক্তিগত মোবাইলে কলের ভিত্তিতে রান্না করা খাবার পরবিশেন করছে পুলিশ। বিভিন্ন থানা থেকেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

গণকণল্যাণ পরিষদ (জিকেপি) নির্বাহী পরিচালক ও শম্ভুগঞ্জ জিকেপি অনার্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিক্ষাবিদ লায়ন ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বীকার করতেই হবে চিকিৎসক, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছসেবীরা যে যার মতো করেই জীবন বাজি রেখে এই করোনার বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে আছেন। সবার অবদানই শ্রদ্ধার দাবি রাখে। তবে পুলিশ বাহিনী নজর কেড়েছে ভিন্নভাবে। সবাই একসময় গৃহমুখী হয় বা হতে হয়, কিন্তু পুলিশ থাকে রাস্তায়। কোনো আশ্রয় থাকুক বা না থাকুক, যত দুর্যোগই হোক বা সংকট আসুক- পুলিশ থাকে রাস্তায়। সকলে ঘুমায়, আর পুলিশ থাকে পাহারায়।

প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খান জানান, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, হুজুগে ও গুজবপ্রিয় জনগণকে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি শুধু বিজ্ঞাপন ও বার্তার মাধ্যমে বোঝানো সম্ভব নয়। এটি সম্ভবও হয়নি। যতটুকু সাফল্য এসেছে তাতে পুলিশ বাহিনীর উদাহরণ সৃষ্টির মতো ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে