হোমপেজ অপরাধ ময়মনসিংহ চেম্বার খোলা থাকলেও অধিকাংশতেই দেখা মিলছে না ডাক্তারের

ময়মনসিংহ চেম্বার খোলা থাকলেও অধিকাংশতেই দেখা মিলছে না ডাক্তারের

191
0

খায়রুল আলম রফিক : করোনা পরিস্থিতেতে ময়মনসিংহে প্রাইভেট চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রোগী চিকিৎসায় নয় ছয় করার অভিযোগ উঠেছে । অপরদিকে তাদের সহকারী , নার্স , আয়া এবং সংশ্লিষ্টরা করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে চিকিৎসা কার্যক্রমে সমৃক্ত থাকলেও বাড়িওয়ালাদের দুর্ব্যবহার, হুমকি ধমকিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন ।
ময়মনসিংহ নগরে প্রায় ৩শ’ ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বার খোলা থাকলেও অধিকাংশতেই দেখা মিলছে না ডাক্তারের । ডাক্তাররা তাদের সহকারীদের মাধ্যমে চিকিৎসা ফি নিয়ে মোবাইলে ও ল্যান্ডফোনে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ।
অপরদিকে ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারের স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত পেশার মানুষরা বাড়িওয়াদের অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আতঙ্কে বাড়িওয়ালা তাদেরকে আল্টিমেটাম দিচ্ছেন এই বলে যে, চিকিৎসায় তাদের কর্মস্থলে গেলে ফ্ল্যাট এবং বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে । এবলে কটূক্তিও করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ নগরে আসা প্রায় সকল রোগীই স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে এসে সমস্যায় পড়ছেন। এমনই অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর জেলা থেকে আগতরা । ডাক্তারদের একাংশের দাবি, করোনা-পরিস্থিতি এ জন্য দায়ী।
রোগী ও তাদের আত্বীয়- স্বজনদের অভিযোগ, ডাক্তারদের ফোন নম্বরে ফোন করলেই শুনতে হচ্ছে, হয় তারা বাড়িতে নেই অথবা ব্যস্ত রয়েছেন। কেও ফোন ধরলেও বলছেন চেম্বার ও ক্লিনিকে যান । সেখানে যাওয়ার পর নির্ধারিত ভিজিটের মাধ্যমে সহকারীদের দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হচ্ছে । জ্বর হয়েছে এমন রোগী দেখলেই ক্লিনিক ছেড়ে চলে যাচ্ছেন কতিপয় থাকা ডাক্তারও। বিভাগের ৪ জেলা থেকে ময়মনসিংহ নগরের ক্লিনিকের উদ্দেশ্যে আশা ভূক্তভোগীরা কান্নাকাটি করছেন । তন্মধ্যে ২/১জন মারাও যাচ্ছেন । এদিকে নিরূপায় অনেক রোগী স্থানীয় ওষুধ ফার্মেসির শ্মরণাপন্ন হচ্ছেন । শহর ও গ্রামের রোগীরা ফার্মেসির উপর ভরসা রাখছেন। ফার্মেসিতে বলে প্রাথমিক ঔষধ নিচ্ছেন তারা ।
ময়মনসিংহে ক্লিনিকে ও প্রাইভেট চেম্বারে কর্মরত ডাক্তার গৌতম সাহা জানান, আমি চেম্বারে বসবো না । প্রয়োজন হলে চেম্বারে গিয়ে আমার সহকারীর সাথে কথা বলেন ।
ডাক্তারের সহকারী , নার্স , আয়া এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, একদিকে চেম্বারে গেলে করোনা রোগীর ভয় অপরদিকে বাড়িতে গেলে বাড়িওয়ালাদের হুমকি শুনতে হয় । উভয় শঙ্কটে আছি । চিকিৎসা অর্থাৎ ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারে উপস্থিত থাকলে ভাড়া বাড়ি ছাড়তে হবে প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে। এখন বাড়ি ছাড়লে আত্বীয়- স্বজনরাও ভয়ে থাকতে দিবে না । তারপরও লুকিয়ে লুকিয়ে হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়। তাছাড়া করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ভয়তো রয়েই যায় । রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমরাও করোনা ভাইরাস পজিটিভ হতে পারে। আমাদেরও স্বামী- স্ত্রী, পিতা- মাতা, শশুর- শাশুড়ি, ছেলে- মেয়েসহ পরিবার পরিজন রয়েছে । ঘর থেকে তাঁরা বের হয় না। তবুও আমরা পরিবারের সদস্যরা বাড়ির মালিকদের চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছি । চিকিৎসকের সহকারী, নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে রূঢ় আচরণ করা হচ্ছে ।
এব্যাপারে জানতে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জনের সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে