হোমপেজ সম্পাদকীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাংবাদিকদের নাজেহালের সহজ মাধ্যম !

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সাংবাদিকদের নাজেহালের সহজ মাধ্যম !

102
0

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত দুই বছরে ৫২ জন সাংবাদিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। দেশের সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন,বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সংস্থা,বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন,বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যান ইউনিয়নের প্রতিবাদের মুখে ২০১৮ সালে পাশকৃত বিতর্কিত এই আইনের অপব্যবহারে সম্পাদক/ ক্রাইম রিপোর্টার থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মী পর্যন্ত কেউ রক্ষা পাননি। গ্রেফতার হয়ে এখনো জেলে আছেন অন্তত ১৫ জন। আইন পাশের সময় প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছিলেন যে এ আইনটি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রয়োগের জন্য নয়। এ অপব্যবহার হবে না বলেও আস্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু পাশের পর থেকে এ পর্যন্ত নিপীড়নমূলক এ আইনটির সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মীরা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র মনিটরিং সেলে দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্র ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে ২০১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় ৫২ জন ছাড়াও মানহানিসহ অন্যান্য মামলায় হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন ১০৮ জন সংবাদিক ও সংবাদকর্মী। এ বছর মফস্বলে রাজনৈতিক মহল ও সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হয়েছেন ১৭৮ জন সাংবাদিক। এরমধ্যে সাংবাদিক সাগর চৌধুরী,ময়মনসিংহে মাজহারুল ইসলাম রাজু।

বনেকের গবেষণা সেলের তথ্য ও পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে- ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ৭ জন করে ১৫ জন সাংবাদিক ডিজিটাল মামলায় আসামী হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ৬ জন এবং জুলাই ও ডিসেম্বর মাসে ৬ জন করে সাংবাদিক এই আইনের শিকার হয়েছেন। জানুয়ারি, মার্চ ও আগস্টে ২ জন করে ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা হয়। ১ জন করে সাংবাদিক ডিজিটাল মামলার জালে জড়িয়েছেন মে, জুন ও নভেম্বর মাসে। প্রধান ৬ টি জাতীয় দৈনিক ও শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত এবং বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ বনেকের আর্কাইভে সংরক্ষিত সংবাদ ক্লিপিংস এর ভিত্তিতে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর বাইরেও ডিজিটাল আইনের শিকার সাংবাদিক থেকে থাকতে পারেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ময়মনসিংহের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিনের সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে গ্রেফতার ও রিমান্ড দিয়ে শেষ হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস। যুগান্তরের ৫ সাংবাদিক একসঙ্গে ডিজিটাল মামলার আসামী হন। এর মধ্যে আবু জাফর ও আজহারুল হক গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। অন্য আসামীরা হচ্ছেন মোঃ হুমায়ুন কবীর, শামীম খান ও মেহেদী হাসান। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ইউএনওর নেতৃত্বে যুগান্তরের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গ্রেফতার করা হয় একই আইনে। মার্চে বগুড়ার শেরপুরে দেশনিউজ কন্ঠের সাংবাদিক আবদুর রাজ্জাককে ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৯ সালের মে মাসে ময়মনসিংহ লাইভ ডটকমের সাংবাদিক আবদুল কাইউমকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। বাদী হয়েছেন ময়মনসিংহের বিতর্কিত মামলাবাজ ইদ্রিস খান। জুনে মাসিক বান্দরবানের সম্পাদক ও প্রকাশক মোজাম্মেল হক লিটনকে একই আইনে গ্রেফতার করে পুলিশ। জুলাইতে ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাম্পাস লাইভ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক আজহার মাহমুদের বিরুদ্ধে দিনাজপুরে ডিজিটাল আইনে হয়রানিমূলক মামলা হয়। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে কমেন্ট করায় এ মাসে দৈনিক সমকালের সাংবাদিক ও সাব এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি জাকির হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন এক আইনজীবী। একই মাসে দৈনিক আমাদের বরিশাল-এর সম্পাদক প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম ও গৌরনদী প্রতিনিধি মোল্লা ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা করে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে