হোমপেজ আন্তর্জাতিক ভারতে চলছে ‘জনতা কারফিউ’

ভারতে চলছে ‘জনতা কারফিউ’

276
0

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ভারতজুড়ে ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কারফিউ’ চলছে।রোববার (২২ মার্চ) দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ কারফিউ রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।এসময় জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৩২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কারফিউ’ পালনের ডাক দিয়ে এ সময় নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করার আর্জি জানিয়েছিলেন।

এই কারফিউ পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সক্ষমতা যাচাই হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, বহু মানুষকে আইসোলেশনে রেখে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সতর্ক থাকা, আপনারা এ দিক সে দিক ঘুরে বেড়াবেন, আর করোনা থেকে বাঁচবেন, এটি সম্ভব নয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারফিউ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এক টুইটে মোদি বলেন, আসুন আমরা সবাই এই কারফিউয়ে অংশ নেই, এটি কভিড-১৯ এর ভয়াবহ বিপদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অপরিমেয় শক্তি যোগ করবে। যে পদক্ষেপ এখন আমরা নিয়েছি তা আসছে সময়ে কাজে লাগবে।

এ দিন বিকাল ৫টায় কারফিউ পালনরত নাগরিকদের নিজেদের দরজায়, জানালায় অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্যের সেবা যারা করছেন তাদের জন্য ৫ মিনিট হাততালি, থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

কারফিউ চলাকালীন রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতেও মানা করেছেন তিনি। যে সমস্ত সার্জারি একান্ত জরুরি নয়, সেগুলোর তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ১৪ ঘণ্টা জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো বাদে দেশজুড়ে অন্য সব কিছুই বন্ধ থাকবে।

এ সময় ভারতজুড়ে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও আগে থেকেই চলতে থাকা ট্রেনগুলো বন্ধ করা হবে না এবং সেগুলোর চলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির রেলওয়ে বিভাগ। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কয়েকটি এয়ারলাইন্স সীমিত ফ্লাইট চালাবে বা বাতিল করবে বলে জানিয়েছে।শনিবার পশ্চিমবঙ্গ ও পুনেতে একজন পুরুষ ও একজন নারীর করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের দুজনের কারোই বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস না থাকায় ভারতে কোভিড-১৯ রোগটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনো কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং পোষা প্রাণির সংস্পর্শ এড়িয়ে যেতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের হট লাইন ০১৯৪৪৩৩৩২২২ নম্বরে যোগাযোগের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রচার নজরে আসলে তথ্য অধিদপ্তরের সংবাদকক্ষের ফোন নম্বর ৯৫১২২৪৬, ৯৫১৪৯৮৮, ০১৭১৫২৫৫৭৬৫, ০১৭১৬৮০০০০৮ এবং ইমেইল: piddhaka@gmail.com/piddhaka@yahoo.com অথবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে