হোমপেজ অপরাধ বান্ধবীকে ঘুষের টাকা, সেই সওজ প্রকৌশলীর সম্পদের খোঁজে দুদক

বান্ধবীকে ঘুষের টাকা, সেই সওজ প্রকৌশলীর সম্পদের খোঁজে দুদক

344
0

নিউজ ডেস্ক: ছিল ঘুষের টাকা। সেই টাকারই একটি বড় অংশ জমা পড়ে বান্ধবীর একটি ব্যাংক হিসাবে। তিন দফায় জমা করা টাকার পরিমাণ ৫২ লাখ। এছাড়া আরও ব্যাংক হিসাবে জমা পড়ে আরও কোটি টাকা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায়। এই গুরুতর অভিযোগ ফজলে রব্বের বিরুদ্ধে। তিনি সড়ক ও জনপদ বিভাগের বরিশালের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। আর যার ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয় তিনি অবসরে যাওয়া এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী।

গুরুতর এই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফজলে রব্বে ও তার স্ত্রীর সম্পদের বিবরণী চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিবরনী জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বান্ধবীর একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে প্রথমে আলোচনায় আসেন বরিশাল সওজের বিভাগীয় এই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বান্ধবীকে টাকা দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে দুদকে। শুরু হয় তদন্ত। সবশেষ বান্ধবীর ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় বিশ লাখ টাকা আদালতের নির্দেশে ব্লক করে দুদক। যা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউসিবিএল এর ইস্কাটন শাখার একাউন্টে এই অবৈধ লেনদেন হয়েছিল।

ফজলে রব্বের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান শেষে একাধিকবার কমিশনে তলব করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এ বছরের শুরুতে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জনের অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

রবিবার দুদকের পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা সওজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। তার (ফজলে রব্বে) এবং তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরনী চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দাখিল করলে, আবারও তিনি সময় নিতে পারেন।’

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তদন্তের পর সওজের এই কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত বছরের শুরুর দিকে সাবেক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক টাকা থাকার বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ শাখার। পরে তারা বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে জানতে পারে, এই টাকা আসলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশালের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলে রব্বের। অবসরে যাওয়া ওই সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় একাধিকবার। পাশাপাশি ব্যাংকে লেনদেনের সব তথ্য প্রমাণও সংগ্রহ করে বাহিনীটি।

সেসময় জানা যায়, বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ তার বান্ধবীর ব্যাংক হিসাবে দিয়েছেন সওজের এই কর্মকর্তা। এর পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। এরমধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউসিবিএল এর ইস্কাটন শাখার একটি ব্যাংক হিসাবে জমা পড়েছিল প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। তিন দফায় ওই ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটির তদন্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি তথ্য পায়, ফজলে রব্বে ঘুষের একাধিক লেনদেন করেছেন তার বান্ধবীদের ব্যাংক হিসাবে। নিজের হিসাবকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এই অভিনব কৌশল নেন তিনি। দুদক বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলে প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো ব্লক করে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ইস্কাটন শাখার একাউন্টে এই অবৈধ লেনদেন হয়েছিল। নিয়ম না মেনে ব্যাংকের ম্যানেজার এই লেনদেনে সহায়তা করে বলে মনে করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

বরিশালে যাওয়ার আগে ফজলে রব্বে গাজীপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে জয়দেবপুর-মির্জাপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে প্রায় এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ করান। মান বজায় রেখে কাজ করা হয়নি- এ অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ফজলে রব্বেকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

সূত্র- ঢাকা টাইমস

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে