হোমপেজ অপরাধ রিমান্ডের নামে যুবককে অমানবিক নির্যাতন

রিমান্ডের নামে যুবককে অমানবিক নির্যাতন

355
0

খায়রুল আলম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি : আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বরিশালের উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার দিনভর পুলিশের অমানবিক নির্যাতনে মেহেদি হাসান নামের ওই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাতে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবার নিয়ে যায় থানায়।
রিমান্ডে থাকা হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মপুর থানায় একটি মামলায় মেহেদি হাসান গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ছিলো। এরই মধ্যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দাবী করে আদালতে মেহেদির রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে উজিরপুর থানায় দায়েরকৃত ওই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবী করেন, মেহেদি হাসান ওরফে রনি উজিরপুরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নান্টু হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী এবং গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাাবদের জন্য আবেদন করা করা হয়। এদিকে মেহেদি হাসানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আমাদের আইনজীবীর আবেদন পর্যালোচনা করে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহেদি হাসানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সেই আদেশে স্পস্টভাবে আদালত জানিয়েছেন, আসামী মেহেদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করা সহ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালনের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হলো।
হাসানের বাবা মো: সেলিম অভিযোগ করে জানান, আদালতের এমন কঠোর নির্দেশনা থাকার পরেও আমার ছেলে হাসানকে উজিরপুর থানা পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার পর থেকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছে। এমনকি দিনভর নির্যাতনের একপর্যায়ে রাতে হাসানের রক্ত বমি হলে তাকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে একটু সুস্থ্য হলে পুনরায় হাসানকে থানায় নিয়ে নির্যাতন শুরু করা হয়।
তিনি আরও জানান, হাসানকে নির্যাতনের বিষয়টি আমি আঁচ করতে পেরে শনিবার সকালে থানায় দেখা করতে যাই। তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা আমাকে কয়েকঘন্টা থানায় আটকে রাখে। পরে দুপুরের আগ মুহুর্তে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। এদিকে পুলিশ রিমান্ডে থাকা মেহেদি হাসানকে নির্যাতনের পর চিকিৎসার বিষয়ে উজিরপুর হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হলে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাতে পুলিশ ওই যুবককে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হেলাল খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান মেহেদি হাসানকে তিন দিনের রিমান্ডে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রিমান্ডে নির্যাতনের কোন বিধান নেই এবং তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। অপরদিকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী বলেছেন, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা সংশোধন হলেই নির্যাতন বন্ধ হবে। তবে আইন সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক। না মানলে সে ক্ষেত্রে আদালত অবমাননা হবে। আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন না করে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে