হোমপেজ বিনোদন বসন্তের মোড়কে জমানো একখণ্ড ভালোবাসা

বসন্তের মোড়কে জমানো একখণ্ড ভালোবাসা

244
0

শীতের কুয়াশাকে সরিয়ে সূর্যের স্নিগ্ধ সোনালি আলো নিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সাথে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা। গভীর আবেগ দিয়ে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যখন গেয়েছিলেন, ‘ধরারও ধূলিতে যে ফাগুন আসে/কই তাহার মত তুমি/আমার কাছে কভু আসো না তো!’ ধূলি-ধূসরিত এ ধরায় ফাগুন আসে প্রকৃতির নিয়মেই। বসন্তের আবাহনে মানবজীবনে আসে ভালোবাসাও। তাইতো বসন্ত ও ভালোবাসার সম্পর্ক চিরকালীন। আজ তাকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন, রাঙিয়ে নেয়ার দিন। এ যেন ফাগুন ও ভালোবাসার অপূর্ব যুগলবন্দি। প্রকৃতিতে আজ এক সুরে গেয়ে উঠবে বসন্ত ভালোবাসা।মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা। সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে। বঙ্গাব্দের ক্যালেন্ডার সংশোধনের কারণে আজ শুক্রবার একই দিনে পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। একে তো ছুটির দিন, অন্যদিকে দুটি বিশেষ উপলক্ষ। এ যেন একের ভেতর তিন! ঋতুরাজের প্রথম দিন, ভালোবাসা দিবস, তাদের সঙ্গে ছুটির দিন। উৎসবপ্রিয় বাঙালির ঘর ছেড়ে বের হতে আর কী লাগে? নিসর্গবিবর্জিত মানুষের বসনে, ভূষণে আজ লাগবে বসন্তের ছোঁয়া। ভালোবাসার পরশে ঢেউ উঠবে হৃদয়সমুদ্রেও। বাঙালির জীবনে আজ তাই অন্য রকম উৎসবের দিন।আরেক কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন- ‘হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে,/ হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে।/আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,/ দুরন্ত শিমুল গাছে গাছে,/ তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক।’ এই নগরেও কোকিলের কুহুতান শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন আগ থেকেই। শুকনো পাতা ঝরে জন্ম নিয়েছে নতুন কচি পাতার। আজ সেই পত্রপল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত এসেছে নবযৌবনের ডাক দিয়ে। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। সোনালি রোদের ছোঁয়ায় পলাশগুলো আজ জেগে উঠবে। বসন্তের ঝিরিঝিরি বাতাসে আজ হারিয়ে যাবে প্রেমিকযুগলও। সব আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে বুঝিয়ে দেবে ভালোবাসার গভীরতা। মানব-মানবীর চিরকালের যে প্রেম তার জয়গান হবে চারদিকে। আজকের এই রাঙা সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যাটা একসঙ্গে কাটিয়ে প্রেমিকযুগল গাইবে ভালোবাসার গান। অনেকের জন্য যেমন আজকের কোনো একটা সময় হবে ভালোবাসার প্রথম প্রহর, তেমনিভাবে অনেকে উদযাপন করবে একসঙ্গে পথচলার কয়েক বছর।তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন। আজ দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি। অনেকে আবার ধানমণ্ডি, বনানী, গুলশান, উত্তরার ফাস্ট ফুড ও কফি শপগুলোতে জড়ো হবে। রাজধানীর শপিং মলের ফুডকোর্ট, যেমন—বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কে চলবে খাওয়াদাওয়া। অনেকে আবার একসঙ্গে সিনেমা দেখবে। বাঙালির জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বসন্ত। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব। এবারও রাজধানীতে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। সকাল থেকে রাত অবধি চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় থাকবে যন্ত্রসঙ্গীত, বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী, আবির বিনিময়, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত, দলীয় নৃত্য। দেশের অগ্রগণ্য দল ও বরেণ্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে