হোমপেজ সারা বাংলা ভাষা সৈনিক শামছুল হক এম,পি কে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি

ভাষা সৈনিক শামছুল হক এম,পি কে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি

1180
0

তারাকান্দা প্রতিনিধি : নীহার বকুল : ভাষা সৈনিক শামছুল হক। তাকে ছাড়া হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা অসম্ভব। কারণ তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও তার সংগঠক ছিলেন না, তিনি ছিলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, মহান ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক। ১৯৩০ সালের ৩০ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, বাংলার এই সূর্যসন্তান ভাষাসৈনিক শামছুল হক। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ঐ মিছিলে শামছুল হকের পাশে থাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমলেন্দু বাবু পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।তার বজ্রকণ্ঠের শ্লোগান ছিলো, “এ আজাদি জুটা হে,লরকে লেঙ্গগে পাকিস্থান” সারা ময়মনসিংহ কে কাঁপাতো। পরবর্তীতে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে বিশাল মিছিল নিয়ে বের হওয়ায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের হাতে গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্নস্কুল-কলেজে মিছিল-মিটিং, পথসভা, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণসহ নানামুখী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ভাষা সৈনিক শামছুল হক কখনো পায়ে হেঁটে, সাইকেলে চড়ে, কখনো বা গরুর গাড়িতে চড়ে অতিকষ্টে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাষা আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।চেয়ার এর উপর দাঁড়িয়ে চোঙা দিয়ে তিনি বক্তব্য রাখতেন। ময়মনসিংহে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণে ভাষা সৈনিক শামসুল হক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা এবং ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলেন। ঐতিহাসিক ৬ ও ১১ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭১ সালের ২ মার্চ সকাল ১০:০০টায় ময়মনসিংহের টাউন হল চত্বরে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো এবং বাংলাদেশের নকশা খচিত পতাকা উত্তোলন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথা ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র রক্ষায় বারবার রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন ও কারাভোগ করেছেন। তিনি ১৯৭০,১৯৭৩,১৯৮৬,১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য এবং ১৯৮৯ সালে ২য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ ও ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সংগঠকের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তৃণমূল আওয়ামীলীগের পরম বন্ধু শামছুল হককে অনেকেই ‘শামছু ভাই’ বলে আবার ভালো ফুটবল খেলতে পারায় ও ন্যায়ের জন্য একগুঁয়েমি করার জন্য ‘গাইরা শামছু’ বলেও আদর করে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শ বাস্তবায়নে সাধারণ জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে আজীবন কাজ করে গেছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও পরবর্তী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আদর্শিক এই নেতার একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। ২০০০ সালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কর্তৃক “ভাষাসৈনিক পদক” তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে একুশে পদকে ভূষিত করার দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে ভাষা সৈনিক শামসুল হকের ঘনিষ্ঠ সহচর, ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান হাবিব ও তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী রণু ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া সরকার শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক নূরুজ্জামান সরকার বকুল জানান, আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শবান একজন নেতা শামছুল হককে দেখেছি। তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন গল্প শোনাতেন এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতেন। তিনি মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর সফল রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করেন তাই উনাকে একুশে পদকে ভূষিত করার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে বিশেষ দাবি জানাচ্ছি। মহান এ নেতা ময়মনসিংহ জেলা,ফুলপুর উপজেলা, তারাকান্দা উপজেলার সকল উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সকলের কাছে সমান জনপ্রিয়, শিক্ষা বিস্তারে তিনি অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তার নামে ‘ভাষাসৈনিক শামছুল হক চত্ত্বর ‘আছে তারাকান্দা, ফুলপুর ও টাউনহল ময়মনসিংহ। ভাষাসৈনিক শামছুল হক সাহেব এর মেঝোছেলে শরীফ আহমেদ এম,পি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী,ছোট ছেলে তারই প্রতিষ্ঠিত তারাকান্দা বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল সাজ্জাদ আহমেদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে