হোমপেজ আন্তর্জাতিক এশিয়ায় ছড়াচ্ছে নয়া ভাইরাস

এশিয়ায় ছড়াচ্ছে নয়া ভাইরাস

123
0

প্রতিদিনই নতুন কেউ আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা গত এক সপ্তাহেই তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নতুন এক ভাইরাস দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

উহান কর্তৃপক্ষ গত দু’দিনে ১৩৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। চীনা নববর্ষের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের ঘরে ফেরার যজ্ঞের মধ্যে রাজধানী বেইজিংয়ে দু’জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এ ভাইরাসে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীন থেকে ভাইরাসটি ক্রমেই এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও ছড়াচ্ছে। থাইল্যান্ডে দু’জন আর জাপানে একজনের আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার দক্ষিণ কোরিয়াও একজনের খবর নিশ্চিত করেছে।

ফলে ভাইরাসটি নিয়ে এই অঞ্চলের জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর বিবিসির।

মাসখানেক আগে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটাকে করোনাভাইরাস বলে শনাক্ত করেছিলেন।

তারা জানান, ভাইরাসটি নিউমোনিয়ার মহামারি ঘটাতে পারে। তবে ভাইরাসটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এ শহরে আগেই ৬২ জনের আক্রান্ত খবর দেয়া হয়েছিল।

সোমবার পর্যন্ত ১৩৬টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৭০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংখ্যা এক হাজার ৭০০-র কাছাকাছি হবে। গত সপ্তাহেই সিঙ্গাপুর, হংকং, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলস এবং নিউইয়র্কে চীন থেকে আগত ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছিল। এবার বাংলাদেশেও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও স্ক্রিনিং শুরু করার কথা জানানো হল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর বলছে, তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। কারণ চীন থেকে আসা সব বিমান এই বিমানবন্দর দিয়েই ওঠানামা করে। এছাড়া অন্যান্য বন্দরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভাইরাসটি ২০০২ সালের দিকে এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাসের (সার্স এক ধরনের করোনাভাইরাস) কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

সেবার ওই ভাইরাসে ৮০৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছিল। আর মারা গিয়েছিল ৭৭৪ জন। চীনের কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সংক্রমণ যে ভাইরাসের কারণে হচ্ছে সেটি আসলে এক ধরনের করোনাভাইরাস। অনেক ধরনের করোনাভাইরাস রয়েছে। কিন্তু শুধু ছয় ধরনের ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। নতুন ভাইরাসটি করোনা বলে প্রমাণিত হলে এটি হবে সপ্তম। ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য (জেনেটিক কোড) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মানুষকে আক্রান্ত করা অন্য করোনাভাইরাসের তুলনায় সার্সের সঙ্গে এটির বেশি মিল রয়েছে।

ভাইরাস ছোঁয়াচে কিনা সে ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে গবেষকরা বলেন, যারা চীনের উহান শহরে মাছের বাজারে গিয়েছিলেন তারা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছন।

কিন্তু এমন কয়েকজন রোগী পাওয়া গেছে যারা কোনো মাছের বাজার বা বাজারেই যাননি। অবশ্য এ ভাইরাস সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ডা. সেবরিনা ফ্লোরা বলছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তারা আশঙ্কা করছে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে তবে এখনও এত বৃহৎ পরিসরে ভাবছে না সংস্থাটি এবং ভাইরাস ছোঁয়াচে কিনা সে ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি।

সেবরিনা বলছিলেন ‘যখন শ্বাসতন্ত্রের অসুখ হয় তখন হাঁচি, কাশি থেকে আরেকজন সংক্রমিত হতে পারে এটা ভেবে নিয়েই আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ যদি একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় তাহলে অতি দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে