হোমপেজ জাতীয় ‘এভাবে চলতে থাকলে চরম মূল্য দিতে হবে সমাজকে’

‘এভাবে চলতে থাকলে চরম মূল্য দিতে হবে সমাজকে’

179
0

নিউজ ডেস্ক :

সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত একটি শব্দ ধর্ষন। কয়েকদিন পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষিত হবার পর আরো জোড়ালো ভাবে আলোচনায় আসে ধর্ষন শব্দটি। এনিয়ে চিন্তিত দেশ, সমাজ তথা প্রতিটি পরিবার। নিজের সন্তানের কথা মাথায় রেখে এই চিন্তা আরো দিগুণ হয়ে গেছে সবার মধ্যে। অভিভাবকরা প্রতিনিয়তই তাদের আদরের কন্যাশিশুদের নিয়ে ভীষণ আতঙ্কিত ও চিন্তিত। মেয়েরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। ঘরে-বাইরে, বাসে, লঞ্চে, ট্রেনে, স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বক্ষেত্রে তারা আজ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ধর্ষণ বলতে আমরা যা বুঝি তাহলো ‘কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি লাভ করা।’ বর্তমান সমাজে অহরহই ঘটছে এমন লজ্জাজনক ঘটনা। নারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে যেখানে সেখানে।দিন দিন বেড়েই চলেছে এমন ন্যাক্কাড়জনক কাজ।

সাম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা দিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক)। গতকাল রবিবার (১২ জানুয়ারি) বনেকের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক আলোচনায় সভার মাধ্যমে উদ্বিগ্ন হয় বনেকের উপস্থিত সদস্যরা। ‘ধর্ষণ ও আমাদের লজ্জা’ এই বিষয়কে প্রতিবাদ্য বিষয় করে উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বনেকের উপদেষ্টা ও দৈনিক আমাদের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মিয়াজী সেলিম আহমেদ বলেন, নানামুখি কারণে ধর্ষনের মত এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ধর্ষনের পিছনে যেসকল কারণকে দায়ী করবো তাহলো নৈতিকতার অভাব বা অবক্ষয়, নারীদের সচেতনতার অভাব, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না দেয়া, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধের অভাব, নারীর খোলামেলা ও আবেদনময়ী পোশাক পরিধান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ, সন্তানে প্রতি পিতা-মাতার উদাসহীনতা ইত্যাদি। এরকম নানান কারণে ঘটছে ধর্ষনের ঘটনা লাঞ্ছিত হচ্ছে নারীরা। বর্তমানে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি।

অপ্রাপ্ত বয়েসে ছেলেমেয়েদের হাতে মুটোফোন দেয়াও ঝুকিপুর্ণ মনে করেন বনেকের সভাপতি খায়রুল আলম রফিক। তিনি বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলেমেয়েদের হাতের মুঠোয় স্মার্ট ফোন ইর্ন্টারনেট। সারাক্ষণ চলে অবিরাম ফেইসবুকিং, বিভিন্ন খারাপ লিংকে লগিং, আর তার মাধ্যমেই কিশোর ছেলেরা ঝুঁকে পরে পর্ন-গ্রাফির দিকে। শুধু তাই নয়, মেয়েরাও অপরিচিত লোকের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে, অসহনশীল ছবি আদান প্রদানের মাধ্যমে অহরহ প্রতারিত হচ্ছে। এগুলোও পরবর্তী ধর্ষণকে প্রভাবিত করে।

ধর্ষন প্রতিরোধে দরকার বিবেক ও নৈতিকতার পরিবর্তন বলে বনে করেন বনেকের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি২৪লাইভ ডট কমের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আসাদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে ধর্ষন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবেই আমরা চিহ্নিত করতেই পারি। তবে এই ব্যাধি প্রতিরোধে শুধু রাষ্ট্রই নয় প্রয়োজন পরিবার থেকে পরিবর্তন। পরিবর্তন করতে হবে বিবেক ও নৈতিকতার। আমাদের সমাজে বর্তমানে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজকে দিতে হবে আরো চরম মূল্য। সময় থাকতে সরকার, সমাজ এবং পরিবারের সার্বিক প্রতিষ্ঠায় সমাজকে একটি সুষ্ঠ ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

আমরা সবাই বলতে চাই, কিন্তু শুনতে চাই না এমন মন্তব্য করেন বনেকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক অধিকারের সম্পাদক তাজবির সজিব। তিনি বলেন, আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা সবাই বলতে চাই, কিন্তু শুনতে চাই না। একটা ধর্ষণ ঘটার জন্য আমাদের সমাজের সবার এটা মনে রাখা উচিত, কখনোই একটা মেয়ে দোষী নয়। প্রথমেই আমরা যে ভুলটা করি, তা হল আমরা ভুলে যাই আমরা একজন ভিক্টিমের অ্যাক্সিডেন্টের জন্য তাকেই দোষারোপ করছি, যা মোটেই যৌক্তিক নয়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, একজন মেয়ে বা কন্যা সন্তান তার জীবনের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। সুতরাং তার বেঁচে থাকার জন্য আশেপাশের মানুষের একটু সহানুভূতির প্রয়োজন।

আলোচনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বনেকের উপদেষ্টা খন্দকার সাইফুল ইসলাম সজল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জিন্নাতুন নাহার ও প্রচার সম্পাদক নাহিদুর রহমান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে