হোমপেজ সারা বাংলা ত্রিশালের ধলা আশ্রয় কেন্দ্রের বাবুর্চি বদলী !

ত্রিশালের ধলা আশ্রয় কেন্দ্রের বাবুর্চি বদলী !

356
0

খায়রুল আলম রফিক : ‌‌

ত্রিশালের ধলা আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম শিরোনামে বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর অনিয়মের ঘটনা ভিন্নদৃষ্টি এবং প্রকৃত দুর্নীতিবাজ আড়াল করতে কৌশলী ভূমিকা নেয়ার অভিযোগ উঠছে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে । সংবাদটি প্রকেশের পর ধলা আশ্রয় কেন্দ্রের বাবুর্চি উজ্বলকে বদলী করা হয় । প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, আকারে মোটা তার উপর বস্তায় পোকা ভর্তি নিম্নমানের চাল। রংটাও কালচে। অভিযোগ, সেই চালই দেওয়া হচ্ছে ত্রিশাল ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের শিশু কিশোরদের। শুধু চাল তাই নয় । প্রতিদিন মোটা ভাতের সাথে খাওয়ানো হয় লাউয়ের তরকারি । মাছ মাংস কপালে জুটে না তাদের । কালে ভদ্রে কেন্দ্রের শিশুদের জুটে পাঙ্গাস মাছ । অভিযোগের তীর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান , স্টোর কিপার রফিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার আব্দুল রশিদ বাদলের দিকে ।

অভিযোগ, এই তিনের যোগসাজশেই চলছে অনিয়ম । অপরদিকে তীব্র শীতে এই শিশুদের নেই গরম কাপড়া । রোগ- ব্যাধীতে আক্রান্ত এই শিশুরা । তাদের হাতে পায়ে ইনফেকশন বাঁধা বেঁধেছে । এ নিয়ে তিতিবিরক্ত কেন্দ্রের অসহায় শিশুরা । তারা বলছে, যে চালের ভাত দেওয়া হয়, তা খাওয়ার অযোগ্য। পোকায় খাওয়া, কাঁকরে ভর্তি চাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালো নেই ময়মনসিংহের ত্রিশাল ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের শিশু কিশোররা। দিনের পর দিন নির্যাতিত হচ্ছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি এখন স্থানীয়দের কাছে টর্চার সেল হিসেবেই পরিচিত। ভেতরের নোংরা পরিবেশে জটিল চর্মরোগ সহ নানান রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশুরা। ধলা আশ্রয় কেন্দ্রের সার্বিক দুর্নীতিবাজদের কার্যক্রম এখন ধাক্কা দিচ্ছে সরকারের মহৎ উদ্যোগ । এই চক্র সরকারের উদ্যোগ থমকে দিয়েছে । রয়েছে। দুর্নীতিবাজদের কারনে অপুষ্ঠির আঁচ পুইয়েই যাচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রের বাচ্চারা। ভবঘুরে বা নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের জন্য সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে রক্ষণাবেক্ষণ, ভরণপোষন, প্রশিক্ষণ সহ নানান কর্মকান্ডের ফিরিস্তি সমাজ কল্যান অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট দেয়া আছে।

ক্স্তিু এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরের এসবের কোনটারই মিল নেই। ধলা জমিদার বাড়িতে ১৮ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রটি। ওই আশ্রমে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, মাদকসেবী ও ভবঘুরে পরিচয়হীন শিশু কিশোরদের বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে বসবাস করছে ২৭২ জন। ওদের জন্য সরকার থেকে খাদ্য, চিকিৎসা ও কারিগরি প্রশিক্ষনসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকলেও উপরোক্তদের যোগসাজশে বন্দিদের মৌলিক চাহিদা হরণ করা হচ্ছে । কারো কাছে অভিযোগ করলেও খর্গহস্তে শাসন করা হয় এদের । এলাকাবাসীও বলছেন, ধলা আশ্রয় কেন্দ্রের শিশু কিশোররা ভাল ভাবে খেতে পাচ্ছে না, মাসের পর মাস দরকারি জিনিসপত্র পাচ্ছে না । সবচেয়ে খারাপ লাগছে বাচ্চাগুলোর জন্য। ওরা কী খাচ্ছে, কী পড়ছে— এ সব ভেবে খুবই চিন্তায় তারা । অপুষ্ট বাচ্চাদের নিউট্রিশন ড্রিঙ্ক দেওয়াও হচ্ছে না । মাংসের পাট উঠেই গেছে তাদের কপাল থেকে ।

সপ্তাহে দু’দিন ওরা মাছও ঠিকঠাক পাচ্ছে না।এভাবে চলতে থাকলে ওদের বাঁচাও দায় হবে ! এবার অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮/১৯ অর্থবছরে আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাসকারীদের সেন্ডেল , শীতের কাপড় এবং আসবাবপত্র ক্রয়ে ঠিকাদারকে ৪লাখ টাকা দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ । উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের যোগসাজশে উপরোক্ত অর্থের মাত্র ১লাখ টাকা খরচ করে বাকী সমূদয় অর্থ আত্নসাত করে ঠিকাদার । অন্যদিকে মৃত ঠিকাদার দরদাতা রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদার আব্দুর রশিদ বাদলকে ৫লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া হয় ।

পিপিআর লঙ্ঘন করে পুন: দরপত্র আহবান না করে ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান । আরও অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান যোগদানের পর গত ৯ মাসে আশ্রয় কেন্দ্রে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ।

অভিযোগ পুষ্ঠিকর খাবার এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে । স্থানীয় মীর জাহাঙ্গীর জানান, ঠিকাদার বাদল আশ্রয় কেন্দ্রের পুকুরের বড় সাইজের মাছ ধরে নিয়ে সেগুলো উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বাসায় সরবরাহ করেন ।

এব্যাপারে উপ পরিচালক (ডিডি) শাহিদা আক্তার জানান, ‌‌ত্রিশালের ধলা আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম শিরোনামে সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে । ৭ দিনের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে