হোমপেজ জাতীয় বিশ্ব সেরা অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

বিশ্ব সেরা অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

57
0

যুক্তরাজ্যে ভিত্তিক স্বনামধন্য ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস গ্রুপের এর মাসিক ম্যাগাজিন ‘দি ব্যাংকার’ পত্রিকা ২০২০ সালের জন্য ‘ফাইনেন্স মিনিস্টার অব দি ইয়ার ফর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ২০২০’এ ভূষিত করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি’কে। দি ব্যাংকার পত্রিকাটি ১৯২৬ সাল হতে প্রকাশিত হচ্ছে, যা পৃথিবীর ব্যাংকিং সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স হিসেবে খ্যাত। তারা ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ার’ পুরষ্কারটি গত ২০০৪ সাল থেকে প্রচলন করেছে বলে অর্থমন্ত্রনালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করা হয়, সারা বিশ্বের অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনয়নসহ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গৃহিত পদক্ষেপ বিবেচনা করে সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ, এই পাঁচটি অঞ্চল হতে পাঁচ জন অর্থমন্ত্রী-কে এবং তাঁদের মধ্যে থেকে একজন কে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের কোন অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। গত বছর এ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী, তাঁর আগের বছর ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনা’র অর্থমন্ত্রীকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বিরল এ পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের সকল জনগনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরন করেই এটি অর্জিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপিকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ সময়কালে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তিনি চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচল রাখা ও আর্থিক খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনয়নে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাসহ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। পর পর তিনটি অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর গত বছর ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অর্থমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণী অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার প্রণিধানযোগ্য। প্রথমতঃ ব্যাংক সুদের হার নয় শতাংশে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ, দ্বিতীয়তঃ রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর যৌক্তিক কারণে খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিলকরণের উদ্যোগ গ্রহণ, তৃতীয়তঃ ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি-দের দেউলিয়া ঘোষণাসহ তাদের সম্পদ ‘এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী’র মাধ্যমে গ্রহণ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ, চতুর্থতঃ ব্যাংকের পরিবর্তে ক্যাপিটাল মার্কেট হতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, পঞ্চমতঃ বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রথমবারের মতো বাংলা টাকা বন্ড লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ-এ তালিকাভুক্তকরণ, ষষ্ঠতঃ কর আদায়ে ভ্যাট আইন চালু করা, কাস্টমস আইন সংস্কার করা এবং আয়কর আদায়ের নেট উপজেলা পযন্ত বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ, সপ্তমত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে