শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

‘ফল পাল্টাতে চাপ’ দেওয়া ট্রাম্পের ফোনালাপ ফাঁস

‘ফল পাল্টাতে চাপ’ দেওয়া ট্রাম্পের ফোনালাপ ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়েছে দুই মাস হয়ে গেছে। এখনও পরাজয় মেনে নেননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেটকে চাপ দিয়েছেন। এ জন্য তাকে প্রয়োজনীয় ভোট সংগ্রহে টেলিফোনে সরাসরি নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনসপারজারকে ফোন করেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের দীর্ঘ ফোনালাপের অডিও রবিবার প্রথম প্রকাশ করে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রথমে ব্র্যাড রাফেনসপারজারকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তার প্রশংসায় নানা কথা বলেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলেন। এতেও কাজ না হলে অপরাধের ভুয়া অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি দেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প বলে বসেন, ব্র্যাড রাফেনসপারজার খুব বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের ফল পাল্টাতে আর কত নিচে নামবেন, আর কত–কী করবেন, এ নিয়ে মার্কিন মিডিয়া সরগরম হয়ে উঠেছে। যদিও তার এসব উল্টা-পাল্ট কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্যও কেউ এগিয়ে আসছে না।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সূত্র ধরে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেক্রেটারি অব স্টেটকে ১১ হাজারের বেশি ভোট কোনোভাবে খুঁজে বের করার জন্য বারবার বলছেন বলে ফোনালাপে শোনা যায়। সেখানে ট্রাম্প জর্জিয়ার জনগণ ক্ষুব্ধ, আমেরিকার লোকজনও ক্ষুব্ধ বলে উল্লেখ করেন। ব্র্যাড রাফেনসপারজারকে টেলিফোনে ট্রাম্প বলছিলেন যে আবার গণনা করে ‘ভোট পাওয়া গেছে’ বলার মধ্যে কোনো ‘ভুল নেই’।

ট্রাম্প বলছিলেন, ‘আমি এই একটা জিনিসই চাইছি—কোনোভাবে ১১ হাজার ৭৮০ ভোট খুঁজে বের করা।’ ট্রাম্পের এই চাওয়ার কারণ হলো- এর মাধ্যমে জো বাইডেনের চেয়ে তার এক ভোট বেশি হয়ে যাবে এবং জর্জিয়ার নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছেন, তা প্রমাণিত হবে। এমনিতেই নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের কথার পরিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাড রাফেনসপারজারকে বলতে শোনা যায়, তিনি (ট্রাম্প) ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কথা বলছেন। রাজ্যের ভোট ঠিকই একাধিকবার গণনা করা হয়েছে। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় নতুন ভোট খোঁজে পাওয়ার কাজ যে তিনি করবেন না, এমন কথা বিনয়ের সঙ্গে বলেন ব্র্যাড রাফেনসপারজার।

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম থেকে বেপরোয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয় মানেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো জাতীয় নির্বাচনের পর যেমন সব কাণ্ড ঘটেনি, তা–ই ঘটিয়েছে তিনি। একের পর এক মামলা করেছেন। অর্ধশতাধিক মামলার একটাও কেউ আমলে নেয়নি।

সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপির ভুয়া দাবি শুনানিতেই রাজি হননি। এখন ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ইলেক্টোরাল ভোট গণনা নিয়ে আপত্তি ওঠানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। নিজের সমর্থক আইনপ্রণেতাদের চাপ দিচ্ছেন।দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ফোনালাপের অডিও এমন একটি প্রমাণ, যার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে অধস্তন রাজ্য কর্মচারীদের ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এর আগে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ব্রায়ান কেম্পকে এমন চাপ দিয়েছেন।

রাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর এবং সেক্রেটারি অব স্টেট—দুজনই রিপাবলিকান। তারা প্রেসিডেন্টের সরাসরি চাপ সত্ত্বেও নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি। একই কাজ করেছেন পেনসিলভানিয়া, অ্যারিজোনাসহ বেশ কিছু রাজ্যের কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ, হুমকি ও প্রলোভনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যপর্যায়ের এসব কর্মকর্তা।

গতকাল ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এক টুইটবার্তা দেওয়া হয়। সেখানে ব্র্যাড রাফেনসপারজারর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি জানান ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের ভাষ্য, ব্র্যাড রাফেনসপারজার নির্বাচনসংক্রান্ত জালিয়াতি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে ব্র্যাড রাফেনসপারজার ফিরতি টুইটবার্তায় বলেছেন, ‘শ্রদ্ধার সঙ্গে বলতে হচ্ছে মি, প্রেসিডেন্ট, আপনি যা বলছেন, তা ঠিক নয়। সত্য বেরিয়ে আসবে।’

এদিকে টেড ক্রুজসহ ১১ জন প্রভাবশালী সিনেটর অন্য আইনপ্রণেতাদের নিয়ে ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ঝামেলা পাকানোর সব প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন।

সিনেটর ক্রুজসহ অন্যরা দাবি জানাচ্ছেন, নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা একটি কমিশন গঠন করে তদন্ত করা হোক। সে পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ভোটের ফলাফল স্থগিত থাকবে। ভোটে অনিয়ম পাওয়া গেলে রাজ্য আইনপ্রণেতাদের ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা চার্লস শুমার গতকাল বিকেলে বলেছেন, সিনেটর টেড ক্রুজ এখন ভোট কারচুপি নিয়ে তদন্ত করতে ইচ্ছুক। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি লিংক সংযুক্ত করে টুইটবার্তায় চাক শুমার বলেছেন, সিনেটর টেড ক্রুজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে কাজটির সূচনা করতে পারেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest