মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০১:০০ অপরাহ্ন

ধর্ষণ করে হত্যা ১৪ নারীকে, গ্রেফতারের পর বললেন ‘ঝোঁকের বশে’

ধর্ষণ করে হত্যা ১৪ নারীকে, গ্রেফতারের পর বললেন ‘ঝোঁকের বশে’

একের পর এক নারীদের ধর্ষণ ও খুন করেও ৩০ বছর ঘুরে বেড়িয়েছেন এই সিরিয়াল কিলার। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চোখে ধুলা দিয়ে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। এর মধ্যে বহুবার পুলিশি জিজ্ঞাসার মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি। তবুও তাকে অপরাধী হিসেবে ধরতে পারেনি পুলিশ। কারণ এতোটাই ধূর্ত এই সিরিয়াল কিলার।

আজ থেকে ৩০ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৪ জন নারী ও কিশোরীকে হত্যা করে লী চুয়া জি। চাঞ্চল্যকর এই সিরিয়াল খুনের জন্য গত সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে গ্রেফতারের পর তিনি যা বলেছেন তা অবাক করেছে বিশ্বকে! গ্রেফতারের পর তিনি বলেছেন, আমাকে এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি দেখেই তো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি!

একবছর আগে পুলিশের কাছে অপরাধের স্বীকারোক্তি দিলেও এই প্রথম জনসমক্ষে খুনের ব্যাপারে কথা বলেন লী। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সুয়োন শহরের আদালতে সবার সামনে লী বলে, সারাজীবন এই অপরাধ চাপা থাকবে না তা আমি জানতাম।

১৯৮৮ সালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে ইউন নামে একজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২০ বছর কারাভোগ করার পর ২০০৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি এবং তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এরও ১২ বছর পর ২০২০ সালে এসে মূল অপরাধী লীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশটির হোয়াসিয়ং অঞ্চলে ১০ জন নারী ও চারজন কিশোরীকে হত্যা করা হয়। জায়গাটির নাম অনুযায়ী এই চাঞ্চল্যকর সিরিয়াল হত্যাকে হোয়াসিয়ং মার্ডার বলা হয়। ১৯৯৪ সালে নিজের শ্যালিকাকে হত্যা করেন।

একটি হত্যার জন্য ইউনকে গ্রেফতার করা হলেও অনেক দিন পর্যন্ত বাকি ৯টি হত্যার কোনো মিমাংসা হয়নি। এই হত্যা মামলাগুলো নিয়ে ২০০৩ সালে মেমোরিস অব মার্ডার নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন অস্কারজয়ী নির্মাতা বং জুন হো।

খুনের জায়গা থেকে করা বেশ কিছু ডিএনএ পরীক্ষার ফল লী এর সঙ্গে মিলে যায়। গতবছর এই ফল পুলিশের হাতে আসে। ২০ বছর ধরে নিজের নিরপরাধ হওয়ার দাবি করে আসছিল ইউন। ডিএনএ পরীক্ষায় লী এর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়ার পর ইউনকে পুনরায় আইনী প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে সোমবার আদালতে উপস্থিত করা হয় লীকে। সেখানে লী বলেন, আমাকে গ্রেফতার করতে এতো সময় লাগল কেন পুলিশের তা আজও বুঝতে পারি না আমি। এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটার সময় আমি প্রমাণ লুকানোর তেমন কোনো চেষ্টাই করিনি।

এমনকি আমাকে সেই সময় যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আমার হাতে নিহত একজনের ঘড়িও ছিল। অথচ আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। অসংখ্য পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দার মুখোমুখি হয়েছি আমি। অথচ তারা সবাই আমাকে আশেপাশের লোকজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ছেড়ে দিয়েছে।

১৩ বছরের এক কিশোরী হত্যার ঘটনা বর্ণনা দেয়ার সময় লী এর মধ্যে কোনো আবেগ বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। আদালতে খুব সাবলীল কণ্ঠেই সে বলে, এটা আসলে ঝোঁকের মাথায় করেছিলাম আমি।

লী বলেন, আমি শুনেছি এই হত্যাগুলোর জন্য অনেকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আজকে আদালতে আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি যাতে করে নিহত ও নির্দোষদের স্বজনরা সত্য জেনে মনে কিছুটা হলেও শান্তি পান। বাকি জীবন এই অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করব আমি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest