সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে সমাজের মানুষ

বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে সমাজের মানুষ

নারীদের চোখে-মুখে ভয় আর আতঙ্ক। তাদের শঙ্কা এখন নিজের আর সন্তান-স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়েও। প্রশ্ন উঠেছে, বর্তমান সমাজে কোথায় নিরাপদ নারী? স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী। নিজের বাড়িতে লাঞ্ছিত হচ্ছেন নারী। চার বছরের শিশুকেও ছাড়ছে না ধর্ষকরা! একের পর এক ধর্ষণ-গণধর্ষণের বিরুদ্ধে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। রাস্তায় নেমেছে প্রতিবাদকারীরা।

সারাদেশ উত্তাল প্রতিবাদ, সংগ্রাম, স্লোগান, মানববন্ধন, জনসমাবেশে ও আন্দোলনে। প্রতিবাদের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে জনসচেতনতা, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে জনমত, তৎপর হচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। ইতোমধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে সুফল মিললেও প্রতিবাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ-গণধর্ষণ।

গতকালও সারা দেশে শিশুসহ ১২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও একদিন আগে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে— ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে আইন হচ্ছে। কিন্তু এর পরোয়া করছে না ধর্ষকরা। শুধু কি তাই— শিশুরাও জড়াচ্ছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে।

 

ধর্ষণের নেপথ্যে বিশেষ মহল সবসময়ই দায়ী করে আসছে নারীদের পোশাককে। তবে বর্তমান সময়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে— পোশাকই যদি ধর্ষণের কারণ হয়ে থাকে তাহলে মাদ্রাসাপড়ুয়ারা কিংবা শিশুরা কেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে? শিশুরা কেন ধর্ষণকাণ্ডে জড়াচ্ছে?

সার্বিক বিষয় নিয়েই অপরাধবিজ্ঞানী ড. জিয়া রহমান আমার সংবাদকে বলছেন, ‘ধর্ষণ বেড়ে গেছে বলা হচ্ছে— প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের ঘটনা ঠিকই আছে, আগেও ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, তখন একেবারে টানা ১৫-২০ দিন ঘটেছে।

শিশুদের ওপর যখন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, এখন পুরো বাংলাদেশেই একযোগে শুরু হয়েছে। কাজেই ধর্ষণের ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে সেটা বলা ঠিক হবে না। এটা মূলত দুইভাবে কাজ করে। তার একটা হচ্ছে— এসব ঘটনায় মনস্তাত্বিক কিছুটা ইনফ্লুয়েন্স হয়। যারা এ সমস্ত কাজ করে তারা এসব দেখে কিছুটা উৎসাহিত হয়।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে— রিপোর্টাররা এত বেশি শক্ত অবস্থানে থাকে, যখন যেখানে যে ঘটনাগুলোই ঘটছে সেগুলো ফলাও করে প্রচার করছে, আমাদের দেশে প্রচুর ধর্ষণসহ এ জাতীয় অপরাধও কিন্তু হচ্ছে, তার অধিকাংশই চাপা পড়ে যাচ্ছে বা এক ধরনের মিনিমাইজ করে ফেলা হচ্ছে। এটা একটা সাধারণ বিষয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটা আর করতে পারছে না, সবাই সোচ্চার। যে কারণে মনে হচ্ছে এটা বেড়ে যাচ্ছে।’

একটি মহল ধর্ষণের ঘটনায় নারীদের পোশাককে দায়ী করছে জানালে তিনি বলেন, ‘আসলে এগুলো কোনো ইস্যু নয়, এগুলো আমাদের মনস্তাত্বিক এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, যে কারণে নারীর পোশাক থেকে শুরু করে সবকিছুই দোষের।

এটা বলে কেউ যথার্থতা প্রমাণ করতে পারবে না। এগুলো একপ্রকার ধারণা। পশ্চিমা বিশ্বে তো এসব বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। বাংলাদেশে কেন প্রশ্ন তুলছে। আসলে আমাদের মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা আছে বলেই আমরা নারীকে পণ্য মনে করি এবং নারীকে আমরা
এভাবেই দেখতে চাই।’

শিশুরা কেন তাহলে ধর্ষণে জড়াচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শিশুদের বিষয়টা খুবই ক্লাসিফায়েড এবং খুবই স্পেশালাইজড গ্রুপ। শিশুদের ক্ষেত্রে সিরিয়াসলি সাইকোলজিক্যাল ডিস্টার্বেন্স আছে। সেক্সুয়াল প্রভৃতি কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে আমাদের সবার মধ্যেই রয়েছে। আমরা কিন্তু আমাদের নীতি-নৈতিকতা, কৃষ্টি-কালচার এগুলো দিয়ে কন্টেইন করি। জর্জ ফ্লয়েডের ভাষায়, ইড বনাম সুপার ইগো।

ইড বলছেন— ন্যাচারাল যে ইন্সট্রিংটা মানুষের মধ্যে থাকে, আর সুপার ইগো বলছে— কালচার। কালচার সবসময়ই এটাকে মানুষের মাঝে কন্টেইন করে রাখে— যেমন এর চেয়ে বেশি যাওয়া যাবে না, এর চেয়ে বেশি করা যাবে না। এসব কারণেই একসময় আমাদের সমাজে সংস্কৃতি ছিলো, ব্যভিচার ছিলো। সে ব্যভিচার থেকেই এটাকে কন্টেইন করে বিয়ের পদ্ধতি উন্নত করে সভ্যতায় সেগুলোকে লিগ্যালাইজড করা হয়েছে।

 

অর্থাৎ এটা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন যাদের মধ্যে এ নিয়ন্ত্রণটা নেই, তারাই মাদ্রাসা ছাত্রদের কিংবা চার্চেও বলাৎকারের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রিফ্রেশন এবং এ রিফ্রেশন না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে। এটা খুবই স্পেসিফিক কেস এবং তাদের সাইকোলজিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও এটা কোনো সাইকোলজির মধ্যে পড়ে না।

যেমন কেউ কেউ পিটিয়ে বা অত্যাচার করেও কিন্তু সেক্সুয়াল প্লিজার পায়। সেটাকে ফ্লয়েড বলছেন সেটিজম এবং অন্যজন অত্যাচারের শিকার হওয়ার মাধ্যমেই সেক্সুয়াল প্লিজার পায়— সেটাকে বলছেন নেসোটিজম। তবে বিষয় হচ্ছে, এ জাতীয় বিশেষায়িত বিষয় তো সবার মধ্যে থাকবে না। নারী-পুরুষ যাদের মিনিমাম নিয়ন্ত্রণ নেই এবং ভিন্নপথে তাদের মনস্তত্ব ডেভেলপ করছে সেটাতে দেখা যাবে যে, সেক্সুয়াল আর্টসের ক্ষেত্রে তারা শিশুদের দেখে লালায়িত হয়ে উঠে। এটা একেবারেই ভিন্ন। এটাকে একেবারেই জেনারালাইজড করে কিছু বলা যাবে না।’

প্রতিবাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছ এবং পোশাকের দোষ দেয়ার বিষয়ে খুশি কবীর আমার সংবাদকে বলেন, ‘পোশাকই যদি নারীদের দোষের বিষয় হয় তাহলে তনুকে হত্যা করা হলো কেন, ফেনীতে নুসরাতের সঙ্গে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজের ঘটনা ঘটলো কেন? পোশাক হলো যার যার নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এখানে পোশাকের বিষয়ে যা বলাবলি হচ্ছে তা শুধুই অজুহাত।

যদিও এগুলো কোনো অজুহাতই হতে পারে না। তার প্রমাণ তো আমরা দেখেছি। বলা হয় যে, ধর্মীয় অনুশীলন মানলে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ হবে না। এটা তো শুধু অনৈতিক কাজ নয়— এটা ঘৃণ্য অপরাধ।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কাকে ধরেছে? তিনি একজন হুজুর। কপালে দাগপড়া নামাজি হুজুর। কাজেই ধর্মীয় অনুশীলন মানলে যে অনৈতিক কাজ করবে না এটা তো এখন আর দেখা যাচ্ছে না। অথচ এটা হওয়া উচিত, কিন্তু হচ্ছে না।

 

তবে পোশাককে দায়ী করা হচ্ছে সেটা হচ্ছে দোষারোপের সংস্কৃতি। আমরা দুই সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে গেছি। একটা হচ্ছে দোষারোপের আরেকটা বিচারহীনতার। এ দুইয়ের মাঝে পড়েই এসব ঘটনার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। পশ্চিমা বিশ্বের উদাহরণ দেয়া হয়। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে তো এগুলোর সাথে সাথে সাথে কোর্ট-কাচারি হয়ে যায় এবং অপরাধের বিচার হয়। আমাদের এখানে তো ৪ শতাংশেরও বিচার হয় না। উদাহরণ দেয়াটা সহজ।’

শিশুদের ধর্ষণে জড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পারিবারিক মূল্যবোধের অভাবে হচ্ছে।

শিশুরা অপরাধী হলেও কিন্তু সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাইফুর শুধু কি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। না, তার ভাই তাকে সীমান্ত অতিক্রম করে পালানোর চেষ্টায় সহযোগিতা করেছিল।

পরিবারই অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। খালি যে রাজনৈতিক সংগঠনকে গালি দেই আমরা সেখানে পরিবার কী করে? এমন তো না যে, তারা জানতো সাইফুর অপরাধী। কারণ ততক্ষণে তো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনা। খালি কি কিশোর অপরাধীদের দায়ী করবেন? পরিবারগুলো, বয়স্করাও তো এরকম করছে। অথচ আমরা তো এমনও উদাহরণ দেখেছি যে, মাদকাসক্ত ছেলেকে পিতা নিজেই পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন।

তাহলে সাইফুরকে তারা কেন ধরিয়ে দিলো না। এটা পারিবারিক বন্ধন, মাদকের অবাধ ব্যবহার, আকাশ সংস্কৃতি, সবই আছে এর মধ্যে। এ জন্য আগে নিজেরা ঠিক হই, তারপর অন্যদের দোষ দিতে যাই। আমি মনে করি, আন্দোলন-সংগ্রাম তো চলছেই। করোনার কারণে যেতে পারছি না।

আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা আছে আমাদের। কিন্তু আমি যেটা মনে করি, করোনাকালে লকডাউনের সময় কোনো বাড়িতে করোনা রোগী শনাক্ত হলে সেই বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হতো। এখন কেন সামাজিক ব্যাধির সময়ে পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে একদম লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। এটা করা উচিত। সমাজ এদেরকে বর্জন করা উচিত। অপরাধীদের বিচার হবে বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

কিন্তু পরিবারগুলো? তাদের পরিবারগুলোই যদি দাঁড়িয়ে যেতো, যদি স্থানীয় সমাজ দাঁড়িয়ে যেতো; তাহলে এত দুষ্কর্ম হতো না। এরা তো আজকেই এ অপরাধগুলো করছে না। অবশ্যই অনেক আগে থেকেই করছে। কেন পরিবারগুলো ব্যবস্থা নেয় না, কেন সমাজ ব্যবস্থা নেয় না, কেন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নেয় না, কেন মানুষ থানায় যায় না এবং থানায় যদি গিয়েও থাকে তাহলে তারা কেন নাকের ডগায় তেল দিয়ে থাকবে আর আমরা অপরাধীদের বিচার দাবি করবো, তা তো হয় না। শুরু থেকেই প্রতিরোধ করা উচিত। পরিবারের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এ অপরাধীদের আজ সমাজ মেনে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।’

এদিকে ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি ওযায়ের আমিন আমার সংবাদকে বলেন, ‘এক নম্বর বিষয়ই হচ্ছে— ধর্ষণের জন্য আমাদের কলুষিত মন দায়ী। ধর্ষণ, শিশু বলাৎকার এবং হিজাব বা বোরকা পরিহিত নারীও ধর্ষণের শিকার হতে পারে। কারণ যার ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তার কলুষিত মন এক্ষেত্রে মূলত তাকে এ কাজগুলো করতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রলুব্ধ করে। হিজাব বা বোরকা পরিহিত পর্দানশীল নারীও কিন্তু যে কলুষিত মনওয়ালা ধর্ষক রয়েছে; সেও তার ধর্ষণের শিকার হতে পারে, শিশু বলাৎকারের শিকার হতে পারে এবং সাধারণ মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটাতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে— কলুষিত মনটা তৈরি হয় কীভাবে বা মনটা কলুষিত হয় কেন? মন কলুষিত হয় আমাদের বর্তমান সময়ে নারীদের পোশাক এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানাদি, টিভিতে যে সমস্ত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, নাটক-সিরিয়ালগুলো পেশ করা হয় এবং স্বাভাবিক জীবনের মধ্যে অবাধ যে জীবনাচার করা হয় এবং ডিভাইসের মাধ্যমে যে পর্নো ভিডিওর অবাধ প্রচলন হচ্ছে— এর মাধ্যমেই কিন্তু মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে আমাদের সমাজের মানুষ।

বিকারগ্রস্ত যখন হয়ে যায় তখন তার দ্বারা শিশু বলাৎকার হচ্ছে নাকি বোরকা পরিহিত নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, বৃদ্ধা নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নাকি স্বাভাবিক নারী শিকার হচ্ছে নাকি যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই হচ্ছে শুধু তাই নয়— যেখানে কোনো মানুষ পাচ্ছে না সেখানে পশুকেও পর্যন্ত বলাৎকার করতে পারে এই কলুষিত মনওয়ালা ব্যক্তি।

আমি সরাসরি পোশাককে দায়ী করবো না, কিন্তু পোশাক সেই কলুষিত মন তৈরির অন্যতম একটা উপায়। যখন একটা ছেলে বর্তমান সময়ের অবাধ যৌন মেলামেশার পদ্ধতিগুলো দেখে ব্যাপকভাবে। তখন সে এক ধরনের বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই বিকারগ্রস্ত মানুষ মনুষ্যত্বের সীমানা পেরিয়ে পশুর ন্যায় আচরণ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইসলাম যে ধর্ষণের বিধান জারি করেছে। যেমন বিবাহিত হলে বেত্রাঘাত আর অবিবাহিত হলে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। যখন ইসলাম প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্ষণ এবং এ জাতীয় কাজগুলো বন্ধ হওয়ার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে নারী-পুরুষের পৃথকীকরণ পদ্ধতি, পর্দা ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ নীতি-নৈতিকতা এসব কিছু ইসলাম শিক্ষা দেয়ার পর যখন ইসলাম দেখে যে, সব ঠিক আছে, যেমন— পোশাক ঠিক আছে, মহিলা-পুরুষের দূরত্ব ঠিক আছে; অবাধ মেলামেশা নেই, তারপরও গিয়ে যখন একটা মানুষ পশুর পর্যায়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং পশুর পর্যায়ে চলে যায় তখন ইসলাম তাকে এ কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করতে বলে যথোপযুক্ত সাক্ষী-প্রমাণের ভিত্তিতে।

এখন আমরা যদি বর্তমান বাংলাদেশে অবাধ মেলামেশার যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে তার সব ঠিক রেখে শরিয়তের ধর্ষণের বিধানও কার্যকর করি তবুও কিন্তু ধর্ষণকাণ্ড থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের পুরো সিস্টেমকে স্বাভাবিক নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে এবং নারী-পুরুষের শালীন পোশাক, নারী-পুরুষের শালীন ব্যবস্থাপনাকে নিশ্চিত না করতে পারবো। সে কারণে শুধু পোশাককে দায়ী করলে চলবে না।

আর পোশাক যে এক্ষেত্রে কোনো কিছুই নয় সেটা বলারও কোনো অপশন নেই। আমরা দুটোই দেখি— ইসলামের মৌলিক শিক্ষাটাকে কাজে লাগাতে হবে। এরপরও যখন কেউ এতসব নিরাপত্তা থাকার পরও ধর্ষণে যাবে তখন শরিয়তের বিধান যদি কার্যকর করা হয় তাহলে ধর্ষণ চিরতরে বিতাড়িত হওয়া সম্ভব।

আমরা মনে করি, উভয় দিক সমন্বয় করা প্রয়োজন। মানুষ যেনো মানসিক বিকারগ্রস্ত না হতে পারে সে বিষয়ে শুধু ইসলামি শাস্তিই প্রয়োগই নয়, ইসলাম যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে সে পদক্ষেপগুলোকেও সামনে নিয়ে শাস্তি প্রয়োগের দিকে এগোতে হবে। তাহলেই আমরা একটা সুন্দর শান্তিময় সমাজ পাবো। ধর্ষণমুক্ত একটা পরিবেশ পাবো বলেই আশা করছি।’


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest