বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধিক্কারের মুখে পাবনা ছাড়লেন পাবিপ্রবি’র প্রো-ভিসি!

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধিক্কারের মুখে পাবনা ছাড়লেন পাবিপ্রবি’র প্রো-ভিসি!

পাবনা প্রতিনিধি: কলঙ্কের ডালি মাথায় নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধিক্কারের মুখে পাবনা ছাড়লেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম শামীম। ১৩ অক্টোর ছিলো তাঁর শেষ কর্মদিবস। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিদায়-সংবর্ধনা আয়োজন করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অপকর্ম নিয়ে লেখালেখি শুরু হলে তিনি লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। ১২ অক্টোবর বিকালেই বিশ^বিদ্যালয়ের অফিসার সমিতি সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাতে এই মর্মে আহ্বান করেন যে, ‘‘ইতোপূর্বে অত্র বিশ^বিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মাননীয় উপ-উপাচার্য মহোদয় বিমাতাসুলভ, অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং কর্মকর্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করায় তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠান অফিসার্স এসোসিয়েশন বয়কট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সকল সম্মানিত কর্মকর্তাকে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।
ফিসারদের আরেক নেতা হারুনর রশিদ ডন ফেসবুকে লেখেন, ‘‘সবার কাছে প্রশ্ন তিনি পাবিপ্রবির জন্য কি অবদান রেখেছেন যে, তার জন্য প্রশাসনের বিদায় অনুষ্ঠান করতে হবে? প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় তার মেয়াদকালে প্রশাসনের সকল পজিটিভ কাজের বিরোধিতা করেছেন। শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন ও সকল স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজের বিরাধিতা করেছেন, এই তার সফলতা। লজ্জা লাগে সেই প্রশাসন তার বিদায় অনুষ্ঠান করার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছে। লজ্জা! লজ্জা!’’ অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘মাননীয় উপ-উপাচার্য মহোদয় একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে লাথি মেড়ে কোমর ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলেন, একজন কর্মকর্তার আপগ্রেডেশন সরাসরিভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন, আপগেডেশন বোর্ডে আমাদের সম্মানিত কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।’’ পাবিপ্রবি’র বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, কলা অনুষদের ডিন, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং প্রো-ভিসি আনোয়ারুল ইসলামের একই এলাকার সন্তান ড. এম আবদুল আলীম তাঁর ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে লিখেছেন : ‘‘ধিক্কার! নতুন বিশ^বিদ্যালয়গুলোর কোনো কোনোটি যে মুখ থুবড়ে পড়ছে তার জন্য প্রধানভাবে দায়ী এই নন-একাডেমিশিয়ান, কলহপরায়ণ এবং বিলাসিতাপ্রিয় অধ্যাপকগণ। আজ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক) ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম শামীমের শেষ কর্মদিবস। গত চার বছরে একাডেমিক কার্যক্রম অপেক্ষা কলহ-বিবাদ এবং বিলাসিতাকাজে তাঁর বেশি সময় কেটেছে। আজ অনেক শিক্ষক কর্মকর্তা মুখ খুললেও তাঁর বেপরোয়া কর্মকা-ের আমিই প্রথম প্রবল প্রতিবাদ করেছিলাম একেবারে শুরুতে, ২০১৬-র শেষদিকে। … একাডেমিক ব্যাপাওে তাঁর অদক্ষতা এবং অমনোযোগিতার বড়ো প্রমাণ এই বিশ^বিদ্যালয়ের দশবছর বয়সী আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইন্সটিটিউটে এডহকভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া দুজন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়া। গত তিন বছর তিনি সেটির পরিচালক হিসেবে সম্মানী নিলেও ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞান –বিষয়ক গবেষণাকার্যক্রম পরিচালিত করেননি বিধায় মুখ থুবড়ে পড়া ইনস্টিটিউটটিকে বিশ^বিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। … আর তাঁর বিলাসিতার কথা, সেটা আর কি বলবো। আসার পর তাঁকে অর্ধ কোটি টাকা দামের একটি গাড়ি দেওয়া হলো, মন ভরলো না। সেটি বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়ে পৌনে এক কোটি টাকার আরেকটি বিলাসবহুল নতুন গাড়ি নিলেন। আর সে গাড়ি অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও ব্যবহার করেছেন মোহনা টিভি’র টক শো আর ব্যক্তিগত দূরযাত্রার ভ্রমণের কাজেই বেশি। ফলে গাড়ির মূল্যবান মন্ত্রাদির অনেকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন বিশ^বিদ্যালয়। পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত কাসরুম এবং বিশ^বিদ্যালয়ের ডিনদের বসারই জায়গা নেই। কিন্তু তাঁর জন্য চাই বিলাসবহুল চেম্বার! সেটাও দেওয়া হলো। কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গরিবের হাতি পোষার মতো তাঁকে পুষে বিশ^বিদ্যালয় গত চার বছরে কী পেল? তিনি পরিচালক পদে দায়িত্বরত অবস্থায় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটটি বন্ধ করে দিতে হলো! তাঁর প্রতিহিংসা আর ক্রোধের আগুনে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী-কর্মচারী পুড়ে ছারখার হলো; কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় কি পেল? এসব প্রশ্ন এখন সকলেই তুলছেন। প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিবাদও করছেন।’
প্রো-ভিসি আনোয়ারুল ইসলামের আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়েও নানান কথা টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় টিভি টক শ’তে গেলেও অনেক সময় বিশ^বিদ্যালয় থেকে টিএ ডিএ নিতেন। কনফারেন্স করার কথা বলে অনেক ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তুলেছেন। কত টাকা উঠেছে আর কোন খাতে কত ব্যয় করেছেন তার হিসাব যথাযথভাবে দেননি। পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু ফেসবুকে এক কমেন্টে লিখেছেন : ‘ছাত্রছাত্রীদের মাঠ সংস্কার করার কথা বলে এবং ক্রীড়া সামগ্রী কিনে দেওয়ার নামেও অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই টাকা কোন দিন ছাত্রছাত্রীদের পর্যন্ত পৌঁছায় নাই, তিনি নিজে গাড়ি করে ঢাকা যেতেন বিশ^বিদ্যালয়ের খরচে এগুলো কেনার নামে। চাইলে প্রমাণসহ দিতে পারবো। কারণ আমরা একটা কমিটি করেছিলাম স্যারের সাথে একসাথে কাজ করার জন্য কিন্তু কথা বা আশ^াসের বুলি আউরানো ছাড়া কোনো ফল আমরা চোখে দেখি নাই।’ পদাধিকার প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সকল নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হওয়ায় নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতরও বিস্তর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তার মনমতো না হলেই চাকরিপ্রার্থীকে শিবির বলে বিতাড়িত করতেন। তাঁর পরিবার চট্টগ্রামে থাকলেও পাবনা শহরের রাধানগরে নিজে সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য কিনেছেন বিলাসবহুল ফ্যাট।
তাঁর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ওঠায় এবং জবাবদিহিতার মুখোমুখ হতে হবে বিধায় শেষ সময় বিশ^বিদ্যালয়ে আসতেন না। ফোন বন্ধ করে থাকতেন। সর্বশেষ বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিদায়-সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করলেও সে অনুষ্ঠানে আসার সৎসাহস দেখাতে পারেননি। তাঁর সঙ্গে বারবার ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest