বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সারাদেশ

ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ধর্ষণসহ সকল প্রকার অনাচার থেকে সমাজকে রক্ষার দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি-এম খোকন সিকদার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূর আর্তনাদে লজ্জায় ঢেকে দিয়েছে সারা দেশকে। ঘৃণা আর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সারা দেশ। সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়নে নরপশুদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

স্লোগান ওঠেছে সবখানে। ধর্ষকদের বিচার চাই। সমস্যার গোঁড়ায় হাত দেয়া চাই। এদিকে গতকাল ধর্ষণ-নিপীড়নের বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ কালো পতাকা মিছিলে পুলিশি বাধায় হাতাহাতি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীসহ গতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও তাতে যোগ দেন।

বেলা সোয়া ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ঘুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

এসময় পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। পরে মিছিলকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এসময় তারা ধর্ষক ও নিপীড়কদের শাস্তির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগের দাবি জানান। ‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই,’ ‘ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষক পোষে, সেই রাষ্ট্র চাই না’, আমার বোনকে ধর্ষণ কেন, প্রশাসন জবাব চাই, ‘নিপীড়ক যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’— ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে মিছিলকারীরা আবার শাহবাগ হয়ে টিএসসি এলাকায় ফিরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে সন্ধ্যায় শাহবাগে মশাল মিছিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনীক রায় বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশ আটকে দিয়েছে, নেতাকর্মীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমাদের পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেছেন।

পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেপ্তার না করে আন্দোলনকারীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা সন্ধ্যায় শাহবাগে মশাল মিছিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করবো।’

ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা জানান, আহতদের মধ্যে তাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আসমানিয়া আশা, ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা দীপা, মোহাম্মদপুর থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন শুভ, মোহাম্মদপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আহ্বায়ক আরেফিন ইমন ও সদস্য রাসেল রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।

লাঠিপেটা করার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাস্তায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমাদের পুলিশ শাহবাগ শাকুরা পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের তালা ভেঙে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে।’

পুলিশ আগ বাড়িয়ে কোনো হামলা করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা এসেই আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। সেক্ষেত্রে পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে। সাজ্জাদুর রহমান বলেন, যারা আহত হয়েছেন, তাদের দেখতে দুজন পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে ‘সিনিয়রদের’ সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

বেলা ১২টা থেকেই উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে সমবেত হন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা একপাশের সড়ক আটকে মিছিল করেন। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী মহিবুল মিছিলে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেন।

বলেন, ‘মিছিলের শুরু থেকেই পুলিশ আমাদের ওপর চোখ রাঙায়। বাড়ি চলে যেতে বলেছে।’ তবে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শহীদুল্লাহ বলেন, ‘নিরাপত্তা সবার দরকার। আমার নিজের ঘরেও দরকার। তাদের বাধা দেয়া হয়নি। তবে প্রচণ্ড যানজটে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়। তাই অনুরোধ করা হয়েছে রাস্তার একটা পাশ ছেড়ে দেয়ার জন্য।’

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বাসা থেকে তেমন বের হতে দেয় না।

তাই যার বাসা যে এলাকায় সেখানেই আমরা দাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি।’ বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে মৌন মিছিল করেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের শহীদ মিনার থেকে রায়সাহেব বাজার ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ হয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে এসে শেষ হয় মিছিলটি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest