রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:০২ অপরাহ্ন

‘সৈয়দ আশরাফ সৎ ও আদর্শের রাজনীতি করে গেছেন’

‘সৈয়দ আশরাফ সৎ ও আদর্শের রাজনীতি করে গেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।রাজধানীর বনানী কবরস্থানে রোববার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার বোন ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর। এ সময় কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রয়াত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে গত বছর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হলেও এবার দলীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি।স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার কবরে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সৈয়দা জাকিয়া নূর আগামী প্রজন্মকে তার ভাইয়ের জীবনাদর্শ থেকে রাজনীতির শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সৈয়দা জাকিয়া নূর বলেন, ‘আমার ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সৎ ও আদর্শের রাজনীতি করে গেছেন। আগামী প্রজন্মের কাছে আমার এটাই আবেদন থাকবে যে, আমার ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে (তারা) যেন সৎ ও আদর্শের রাজনীতি করে।’

ঢাকার বনানী কবরস্থানে রোববার সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যরা।

ঢাকায় শ্রদ্ধা জানানো শেষে দোয়া মোনাজাতেরও আয়োজন করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে স্মরণসভা ও আলোচনা সভারও। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এসব কর্মসূচির আয়োজন করছে।

সৈয়দ আশরাফের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের বীরদামপাড়ায়। রোববার বাদ জোহর দোয়া, কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসী।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের আয়োজনে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকালে সদর উপজেলা পরিষদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তা ছাড়া বাদ জোহর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে ও ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেতাকর্মীরা

বাদ আসর কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো কমর্সূচি দেওয়া হয়নি।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফ। জাতীয় চার নেতার অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন সৈয়দ আশরাফের বাবা।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাসজীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনেও সৈয়দ আশরাফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি এক কন্যার জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

এক-এগারো–পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের সম্মেলনে তিনি টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৬ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। ওয়ান-ইলেভেন ও হেফাজতের আন্দোলনের মতো সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সৈয়দ আশরাফ।

সৈয়দ আশরাফ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আশরাফুল ইসলাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুক্তিবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। ভারতের দেরাদুনে তিনি প্রশিক্ষণ নেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest