রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

সুযোগ সন্ধানীদের আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী

সুযোগ সন্ধানীদের আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রায় ১২ বছর ধরে ক্ষমতায়। বাংলাদেশে বহু সুযোগ সন্ধানী থাকে। অনেক সুযোগ সন্ধানী পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছে, কেউ কেউ সফলও হয়েছে। সেগুলো বাছাই করে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি থেকে তাদেরকে বের করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই হয়েছে, গতকালও এই বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষক ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাড়ে পাঁচশ নেতাকর্মী মারা গেছেন এবং হাজার হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মারা গেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্য মারা গেছেন, অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে এটি হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ যেভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ঝাপিয়ে পড়েছিল, অন্য কোনো দল সেভাবে ঝাপিয়ে পড়েনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সোয়া এক কোটি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই করোনাকালে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে ছিল। করোনা দুর্যোগ যতদিন থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে থাকবে। শেখ হাসিনা সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের আর কোনো জায়গা আওয়ামী লীগ বা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনেও হবে না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত করেছেন, এগুলো দিবালোকের মতো স্পষ্ট। জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে আসছে। এগুলো যখন পত্রপত্রিকায় ছাপানো হচ্ছে, যখন এগুলো জনগণের কাছে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য আকারে গণমাধ্যম উপস্থাপন করছে তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এজন্য তারা বিএনপি অফিসের সামনে জিয়াউর রহমানের অপকর্ম ঢাকার জন্য মানববন্ধন করে অপচেষ্টা করে।

আওয়ামী লীগ আগে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়- বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এ বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গয়েশ্বর বাবু, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার পর মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। যে চেতনার ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হয়েছিল জিয়াউর রহমান সেই চেতনাকে ধ্বংস করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত যারা বিরুদ্ধাচারী তাদেরকে তিনি ক্ষমতায় বসিয়েছেন। শাহ আজিজুর রহমান, যাকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন, তিনি যখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা চলছিল তখন পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের ডেপুটি লিডার হয়ে জাতিসংঘে গিয়ে শাহ আজিজুর বলেছিলেন, দেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে না, কোনো গণহত্যা হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ ছিল, সেটি চালু করেছেন জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র ধারণ করেছে তাদেরকে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান করে দিয়েছেন। গয়েশ্বর রায়ের বক্তব্য তিনি কোন অবস্থায় বলেছেন সেটি হচ্ছে একটি প্রশ্ন। তিনি কি স্বাভাবিক অবস্থায় বলেছেন, নাকি অস্বাভাবিক অবস্থায় বলেছেন সেটি হচ্ছে একটি বড় প্রশ্ন।

তথ্যমন্ত্রী এ সময় জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হলগুলো চালু করা, চালু সিনেমা হল সংস্কার এবং নতুন সিনেমা হল তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশে সিনেমা শিল্পে একটা বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, ‘অনেক বন্ধ সিনেমা হল চালু হবে। চালু সিনেমা হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে।’


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest