মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

ব্যক্তি বলয় ভাঙতে কঠোর আ.লীগ

ব্যক্তি বলয় ভাঙতে কঠোর আ.লীগ

বিশেষ সংবাদদাতা
দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার স্বাদ নিতে জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূলপর্যায়ে কয়েকটি বলয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় দলটির দলীয় রাজনীতি। এসব বলয়ের নেতৃত্বে থাকেন সাংসদ, মেয়র, জেলা আ.লীগের শীর্ষ নেতারা। দলের রাজনীতিতে পরীক্ষিত হলেও কোণঠাসা ওইসব নেতাদের আশির্বাদ না পাওয়া নেতারা।

দলীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত বলয় ভেঙে দলের নিবেদিত, পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে তৃণমূল গঠনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন আ.লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলন হওয়া তৃণমূলের বিভিন্ন ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী দলের সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দেন।

সূত্র জানায়, প্রায় একযুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আ.লীগ সরকার। ক্ষমতার এ সময়ে মাঠ ও ভোটের রাজনীতিতে সফল দলটি। তবে উল্টো চিত্র ঘরের রাজনীতিতে। বিশেষ করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও ক্ষমতার লোভ এবং দায়িত্বশীল নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও অধিকাংশ এমপি-মন্ত্রীর বলয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা। একের পর এক মামলার শিকার হচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। আর দেশের অধিকাংশ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টির মূলে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

এমপি ও এমপি পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার প্রভাবে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের রাজনীতি। শুধু তাই নয়, দল ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে অধিকাংশ এমপিই নিজ পরিবার ও পছন্দের লোকদের দায়িত্বশীল পদ-পদবিতে স্থান করে দিচ্ছেন।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং রাজনীতির কারণে একদিকে যেমন দল জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অন্যদিকে অভিমানে দূরে সরে যাচ্ছেন দলটির ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত নেতারা। চলমান দলের প্রতিটি ইউনিটের সৃষ্ট দ্বন্দ্ব ও দুর্বলতা দূর করতে আরও কঠোর হচ্ছেন আ.লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এজন্য একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিভাগীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য এবং কার্যনির্বাহী সংসদের একজন সদস্যের সমন্বয় করে কমিটি করা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

এই কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করবে। গত বুধবার সকালে গণভবনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশনা দেন।

এসময় তিনি বলেন, যেসব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শুধু নিজেদের পছন্দমতো লোক রাখবে, যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবে তাদের কমিটি অনুমোদন হবে না।

যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন তাদেরকেও কমিটিতে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দেবে দরকার হলে তাদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করে দেবো।

এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি সম্মেলন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, কমিটিতে ‘মাইম্যান’ না রাখা এবং জেলা আ.লীগের প্রতিটি কমিটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের নেতাদের স্থান দিতেও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এদিকে আ.লীগের প্রতিটি ইউনিটকে বিতর্কমুক্ত রাখতে আরও কঠোর হবে আ.লীগ। মেয়াদোত্তীর্ণ যেকোনো ইউনিটের সম্মেলনের আগে পরে দলীয় পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে করা হবে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আর এসব প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করবেন দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা। বিশেষ করে দলীয় পদপদবি অপব্যবহার করে দল ও সরকারের সুনাম নষ্ট করছেন। তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করবেন তারা।

জানতে চাইলে আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ যেকোনো ইউনিটের সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রতিটি পদপ্রত্যাশীর বিশ্লেষণ করা হবে। হাইব্রিড বা বিতর্কিতদের দলীয় পদে বসানো হবে না।

এ বিষয়ে নেত্রী আমাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারলে তৃণমূলের রাজনীতির গুণগতমান উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা দলের পদপদবির অপব্যবহার করে দল ও সরকারের সুনাম নষ্ট করছেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

আ.লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেন, ব্যক্তি নয়, যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান শক্তিই সংগঠন। তাই তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটগুলোর সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দল আরও শক্তিশালী হবে। তৃণমূলের রাজনীতিকেও শক্তিশালী করা হবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest