বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ ৮ হাজারের তালিকা করেছে আওয়ামীলীগ

বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ ৮ হাজারের তালিকা করেছে আওয়ামীলীগ

খায়রুল আলম রফিক

আবারো দেশজুড়ে দলের ভিতরে থাকা অনুপ্রবেশকারী-বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের ৮ হাজার নামের তালিকা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ। এই তালিকায় থাকা ৫ হাজারই দলের অনুপ্রবেশকারী। এ তালিকা ধরেই চলতি মাসের যেকোনো দিন থেকে আবারো শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হবে। আগামীকাল ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে নেয়া হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, সরকারের ইমেজ রক্ষায় শেখ হাসিনা যে কাউকেই ত্যাগ করতে পারেন।

সে যত বড় এবং প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন। তার তিলে তিলে গড়া সব অর্জন এসব নেতার অপকর্মে মস্নান হতে দেবেন না। সে জন্যই দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তিনি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শেষ দেখতে চান তিনি। দল-মতের উঠে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। এ অভিযানের বিষয়ে খুবই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ছাড়া দলের অন্য নেতা-সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তেমন অবগত নন। এ অভিযানের প্রথম দফায় তাদের ধরা হবে, যারা ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে পদ-পদবি ও অর্থবিত্ত বাগিয়ে নিয়েছেন। দল ও সরকারে শুদ্ধি অভিযানের পর পরিশুদ্ধ একটি দল নিয়ে মুজিব বর্ষ পালন করতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা। প্রধানমন্ত্রী বারবার দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু নিজেদের বলয় ভারী করার জন্য দলের নেতারা তাদের বিষয়ে কঠোর না হয়ে তাদের পাশে রেখেছেন। পরে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের শীর্ষ পদধারীদের অব্যাহতি দিয়েছেন। যুবলীগ নেতাদের বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের কথা না জানালেও তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম, দুর্নীতি সাথে জড়িত, বিতর্কিত এই পাঁচ হাজার অনুপ্রবেশকারী নেতাদের মধ্যে অনেক এমপি পুত্র মাদকের সাথে জড়িত বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, অনুপ্রবেশকারী দুর্নীতি সঙ্গে জড়িত এরা যতোই প্রভাবশালী ও এদের স্বজন হোক না কেনো এবার কেউ ছাড় পাবেন না। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সরকার বা দল নেবে না। তাই বিতর্কিত অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবার আরো জোরদার করা হচ্ছে। চলতি মাসেই জোরালোভাবে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

এদিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। গত বুধবার ২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সম্পাদকম-লীর সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সম্পাদকদের কঠোর নির্দেশনাও দেয়া হয়। বিভাগীয় উপ-কমিটিগুলোতে আর বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারীদের দেখতে চায় না আওয়ামী লীগ। ভবিষ্যতে কোনো কারণে কোনো উপ-কমিটিতে সাহেদদের মতো কাউকে জায়গা দেয়া হলে এর দায়দায়িত্ব উপ-কমিটির মূল কর্মকর্তাদের নিতে হবে সভায় জানানো হয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে শুদ্ধি অভিযান চলবে। সারাদেশের যেখানেই দুর্নীতি বা অনিয়ম এমপি পুত্র বা দলীয় নেতা কর্মীরা মাদকের সাথে জড়িত হবে সবখানেই শুদ্ধি অভিযান চলবে। শুধু যুবলীগ বা ছাত্রলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেরও যারা অনিয়ম দুর্নীতি করবে তাদের সবাই একই পরিণতি ভোগ করবে। তিনি বলেন, প্রশাসন বা রাজনীতির কেউ যদি দুর্নীতিতে মদদ দিয়ে থাকে তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আগাছা-পরগাছা দূর করা হবে। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেয়া হবে না। অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, দলের ত্যাগী-সাহসী নেতাকর্মীরা আজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছে, এখনো ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছে। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অথচ কিছু মানুষ আওয়ামী লীগকে ভাঙিয়ে যা খুশি তাই করবে এটা হতে পারে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চলমান প্রক্রিয়ায় দলের ভিতরে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দল শুদ্ধ করার জন্য এ ব্যবস্থা। এতে দেশের উপকার হবে, সরকার, আওয়ামী লীগ ও রাজনীতির জন্য ভালো হবে। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, দলের ত্যাগী-সাহসী নেতাকর্মীরা আজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছে, এখনো ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছে। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অথচ কিছু মানুষ আওয়ামী লীগকে ভাঙিয়ে যা খুশি তাই করবে এটা হতে পারে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চলমান প্রক্রিয়ায় দলের ভিতরে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দল শুদ্ধ করার জন্য এ ব্যবস্থা। এতে দেশের উপকার হবে, সরকার, আওয়ামী লীগ ও রাজনীতির জন্য ভালো হবে। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এ বিষয়টি সভাপতি জানেন। এটা আওয়ামী লীগের একটি বড় ইস্যু। তবে দলে কোনো অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না বলে জানান তিনি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest