সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

বিতর্কমুক্ত তৃণমূল গঠনে হার্ডলাইনে আ.লীগ

বিতর্কমুক্ত তৃণমূল গঠনে হার্ডলাইনে আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি :

অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং বলয়-ভিত্তিক রাজনীতি ভেঙে দিয়ে ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরীক্ষিত ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের সমন্বয়ে শক্তিশালী তৃণমূল গঠন করতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আগামী শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করা হবে। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আমার সংবাদকে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতার এই দীর্ঘ সময়ে দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন দলটির দলীয় প্রধানসহ প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতার দীর্ঘ সময়ে ভোট ও মাঠের রাজনীতিতে দলটি সফল হলেও গুছিয়ে নিতে পারেনি ঘরের রাজনীতি। বিশেষ করে তৃণমূল আওয়ামী লীগে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দ্বন্দ্ব, ভাই লীগ, এমপি লীগ এবং দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড মাঝেমাধ্যেই দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

ম্লান হয়েছে সরকারের সব অর্জন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ফের কঠোর হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেবেন তিনি।

আ.লীগ সূত্র জানায়, গত বছরের ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সময় দলকে বিতর্কমুক্ত করে শক্তিশালী তৃণমূল গড়তে সম্মেলনের আগে ও পরে ৩১টি মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার সম্মেলন করে ক্ষমতাসীন দলটি। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় দেশের অসহায়, দরিদ্র, শ্রমজীবী, নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের পাশে থাকতে নির্দেশনা দেন তিনি। বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে ফিরতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা। এজন্য আগামী শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডেকেছেন তিনি।

ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, ওই বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাবে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন। মূলত ওইসব সম্মেলনের মধ্যদিয়ে অনুপ্রবেশকারী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নেতাদের চিহ্নিত করে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বলয়-ভিত্তিক রাজনীতি ভেঙে দেয়া হবে।

এছাড়া বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সাথে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেবেন। একই সাথে আওয়ামী লীগের উপকমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে।

জমাকৃত ওইসব কমিটিতে বিতর্কিত, ভিন্নপন্থি ও সুবিধাবাজরা স্থান পেয়েছে কী না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ওই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হতে পারে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিতর্কমুক্ত রাখতে যেকোনো কমিটি গঠনে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। কারা কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন সেগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে চূড়ান্ত গাইড লাইন দেবেন আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্ন তৃণমূল গঠনের কঠোর নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিত ও নব্য আওয়ামী লীগারদের ছেঁটে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের দলে জায়গা দিতে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শও দেন তিনি। যেসব কমিটি ইতোমধ্যে দপ্তরে জমা পড়েছে, সেখানে বিতর্কিত কেউ থাকলে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শক্তিশালী তৃণমূল গঠনে সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতিমণ্ডলীর সভার সিদ্ধান্তসমূহ গত ১৭ সেপ্টেম্বর তৃণমূল নেতাদের চিঠি দিয়ে পালনের জন্য নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওই চিঠিতে তৃণমূলকে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ বাকি সাংগঠনিক জেলাসমূহে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।

তবে জেলা সম্মেলনের পূর্বে জেলার অধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কাউন্সিল সম্পন্ন করতে হবে। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী-পরীক্ষিত বিশেষ করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও করোনাকালীন যারা দেশের মানুষের কল্যাণে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিহিংসা ও বলয়-ভিত্তিক রাজনীতি আওয়ামী লীগে চলবে না। এ বিষয়ে নেত্রী আমাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest