মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার শেষ কোথায়!

পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার শেষ কোথায়!

বিশেষ প্রতিনিধি : যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রায় এক বছর ছুঁইছুঁই। তবুও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি দায়িত্বশীল নেতারা।

ফলে দিন দিন অপেক্ষার প্রহর বাড়ছেই পদপ্রত্যাশীদের। যদিও সংগঠনের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করে দলীয় সভানেত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছেন সভাপতি-সম্পাদকরা।

তারা বলছেন, সভানেত্রী চাইলে যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। এদিকে আওয়ামী লীগের দপ্তরে জমাকৃত খসড়া কমিটি ফের নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। ফলে মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই শেষে জমাকৃত কমিটি পুনরায় যাচাইয়ের ফলে সময় ক্ষেপণ হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য মতে, ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেই গত বছরের ৬, ৯, ১৬, ২৩ ও ২৯ নভেম্বর যথাক্রমে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের জাতীয় সম্মেলন। একই সাথে গত বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়।

ওই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও বিতর্কিত নেতাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর বিতর্কমুক্ত নেতাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সে সময় নবনির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদককে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।

নেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব গঠনে দুই মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা তৈরি করতে প্রায় ১০ মাসের লম্বা সময় পার করেন।

এমন অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দলের উপ-কমিটি, জেলা, মহানগর এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। এরপর একে একে মহানগর, সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য খসড়া তালিকা জমা দেন দায়িত্বশীল নেতারা।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করে জমা দিয়েছি। বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে ত্যাগী ও পরিশ্রমীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সাথে যারা মহানগর উত্তরের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল পদ-পদবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই শ্রেণির নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। নেত্রী চাইলে কমিটি ঘোষণা করতে পারেন।

 

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, বিতর্কিত, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও দলের দায়িত্বশীল পদ-পদবিতে থেকে যারা নানামুখী অপরাধের সাথে যুক্ত তাদের বাদ দিয়ে ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরিচ্ছন্ন, মেধাবী এবং দুর্দিনে বিরোধী শিবিরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, নতুন কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দল, সহযোগী সংগঠন এবং তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এজন্য গত ৩ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। নেত্রীর নির্দেশনার পর সহযোগী ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের নিয়ে কঠোর বিশ্লষণ করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। বিশেষ করে ভিন্নপন্থি ও সুযোগ সন্ধানী কোনো নেতা অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে স্থান পেয়েছে কি-না সেগুলো যাচাই-বাছাই করছেন তারা।

একই সাথে স্থান পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, করোনাকালে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, কমিটি গঠনে তাদের মূল্যায়ন করবে আওয়ামী লীগ। ফলে সম্মেলনের প্রায় এগারো মাস পর খসড়া কমিটি জমা হলেও তা অনুমোদনের সময় লাগছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে দুই মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যাচ্ছে না অনেক দায়িত্বশীল নেতাদের।

বিশেষ করে সম্প্রতি ধর্ষণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। এমন অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রম গড়ে তুলতে পারেনি মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অথচ বিগত দিনের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতেন সামনে থেকে। পদপ্রত্যাশী নেতারা বলছেন, প্রায় এক বছর সাংগঠনিক পদে নেই কেউ। নতুন কমিটিতে স্থান হবে কি-না, তাও অধিকাংশের জানা নেই। তাই দলীয় পরিচয় সংকটে ভুগছেন সবাই। ফলে কেউ আর সামনে আসতে চান না। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন ও ঘোষণা হলেই পুরনো রূপে ফিরবে রাজনীতি।

এমনটাই মনে করছেন দায়িত্বশীল পদপ্রত্যাশীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন দলের দায়িত্বশীল পদে ছিলাম। বর্তমান কমিটিতে রাখছে কি-না বলতে পারবো না। এজন্য দলীয় কার্যক্রমের প্রতি আমার আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে।

দল বা সহযোগী সংগঠন, কোথাও বিতকির্তদের স্থান হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণেই আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে। তাই এই দলের লেবাস ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা আমাদের নেত্রী দিয়েছেন। আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেই দায়িত্ব পালন করছি।

মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের একটু অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করেন। আমরা কাজ করছি। আশা করি একটি গ্রহণযোগ্য এবং বিতর্কমুক্ত কমিটি ঘোষণা করা হবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest