মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করলে ছাড় নয়

গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করলে ছাড় নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এমপি কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা দলের অভ্যন্তরে কোন্দল, গ্রুপিং বা বলয়ের রাজনীতি করলে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

নতুন কমিটিতে কোনো ধরনের বিতর্কিত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মাদক সেবনকারী, মামলার আসামিদের আওয়ামী লীগে স্থান দেয়া হবে না। এজন্য গঠিত কমিটি ঘোষণার আগে পদপ্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

রাজপথে আন্দোলনকারীদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায় করতে গিয়ে কারাবরণ করেছেন— তাদের মূল্যায়ন করা হবে। কমিটির বিভিন্ন পদপদবিতে তাদের রাখা হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই আছেন একসময় দলের ত্যাগ স্বীকার করে রাজনীতি করেছেন কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, কোনোভাবেই তাদের কমিটিতে রাখা হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে শ্রদ্ধা করেন, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত, এই শ্রেণির নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। আমরা চাই যাদের স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজ আছে তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসুক। বিতর্কমুক্ত ও শক্তিশালী তৃণমূল গঠন করতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সব নির্দেশনা দিয়েছেন, সে সব কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। তাই এই দলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা থাকবে— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতিতে যদি কেউ প্রতিহিংসা করে, তাকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা হবে। এজন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা বলেন, নভেম্বরে তিনটি উপনির্বাচন। এই নির্বাচন শেষেই দলের সাধারণ সম্পাদককে সাথে নিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করবো। কাদের ভাই তৃণমূলের জন্য যে বার্তা দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং তৃণমূলে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, মহানগর ও জেলার কমিটি গঠন করা হবে।

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জেলাগুলোয় বর্ধিত সভা করে প্রতিটি উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দিয়ে আসবো। ওই সম্মেলনের আগেই ওয়ার্ড-ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করতে হবে। আমার বিশ্বাস, ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা সম্মেলন সফলভাবে শেষ করতে পারবো।

করোনাকালীন সময়ে যারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা যাচাই-বাছাই করে তিনটি নাম কেন্দ্রে পাঠাবে। সেই নাম আমরা যাচাই-বাছাই করে একজনকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই তার জন্য কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, কারোর জন্য সুপারিশ নয় যোগ্যতা, দক্ষতা দিয়েই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে হবে এবং ভোটের মাঠে জয়লাভ করতে হবে। এখানে কারোর পক্ষ নেয়ার সুযোগ নেই। যোগ্যতা অনুযায়ী জেলা-উপজেলা সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, যোগ্যতা-দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে মূল্যায়ন করা।

সাবেক ও বর্তমান এমপিদের বলয়ভিত্তিক রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য আওয়ামী লীগ কতটুক তৎপর রয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক স্থানে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি এই বিষয়গুলোই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি, যাতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল না থাকে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান যারা এমপি আছেন আগামী নির্বাচনে তারা যে মনোনয়ন পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজেই মনোনয়ন পেতে হলে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে হলে প্রতিহিংসা বরদাস্ত করা হবে না।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest