রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া’ছাত্রলীগ,যুবলীগ,আ,লীগ নেতাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া’ছাত্রলীগ,যুবলীগ,আ,লীগ নেতাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে

বিশেষ সংবাদদাতা :
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। এতে করে দলটির অনেক নেতা হঠাৎ করেই অনেক সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অথচ তাদের আয়ের বৈধ উৎস বলতে তেমন কিছু নেই। রাজধানী,ময়মনসিংহ,সিলেট,রাজশাহীসহ ৬৪ জেলায় এমন নেতাদের বিবরণসংবলিত একটি গোপন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদন দেখে শেখ হাসিনা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা মানুষের বেঁচে থাকতে কত টাকা লাগে? এরা কি টাকা কবরে নিয়ে যাবে? কেন তারা এসব করে?’ অবৈধ অর্থবিত্তশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এই তালিকায় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য,ময়মনসিংহের কয়েকজন এমপি,তাদের পুত্রসহ জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদেরও নাম রয়েছে। অবৈধ অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তি, বিলাসী জীবনযাপন আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর যেসব নেতাকর্মী জড়িত রয়েছেন তাদেরকে নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগে থেকে যারা ফায়দা লুটছে তাদের ব্যাংক একাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি তাদের গ্রামের বাড়িতেও খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

সরকারের নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের এক নেতা জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার ও দলীয় নেতৃত্বে ভারসাম্য আনার অংশ হিসেবে সারাদেশের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ পাবেন না এমপিরা। তৃণমূলে পাঠানো বার্তায় এমপিদের উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যারা এমপি হতে পারেননি, তারা যেন নেতা হওয়ার সুযোগ পান। তবে জেলা পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন এমপিরা। কারণ কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের সমন্বয় করতে হয়।

সূত্র জানায়, তালিকায় নাম থাকা হঠাৎ বিত্তশালীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া প্রতিবেদন দেখা গেছে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শুধু তৃণমূল কিংবা সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই নন, কেন্দ্রীয় কয়েক জন নেতা ও কয়েক এমপি পুত্রের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদ ও অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার তথ্য এখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কয়েক এমপির পুত্রের কোনো বৈধ আয় নেই। কিন্তু তিনি বিলাসবহুল অফিস পরিচালনা করেন। তার সম্পদ প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এমপি যেমন আলোচনায় ছিলেন না, তেমনি তার সম্পদও কিছু ছিলো না। আর এখন তার অফিসে,বাসায় কয়েক শ দালাল,তদবিরবাজ বসে থাকে। তাদের দিয়েই অবৈধ আয়।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য মন্ত্রী হওয়ার পরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, যারা হঠাৎ করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন, যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, তাদের সংখ্যা খুবই কম। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনো রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করেন। আদর্শের চর্চা করেন এবং রাজনীতিকে মানুষের সেবা করার মাধ্যম হিসেবে মনে করেন। রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের নেতাকর্মীর সংখ্যাই বেশি। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় তাদের সম্পত্তি বৈধ নয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো কার্পণ্য না করা হয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলীয় ফোরামের একাধিক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন, রাজনীতি একটি পবিত্র জিনিস, রাজনীতি মানুষের সেবা করার বিষয়। রাজনীতিকে কেউ যদি সম্পদশালী হওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। কারণ রাজনীতি কলুষিত হলে সব থেকে বেশি কলুষিত হবে আওয়ামী লীগ।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest