সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

ভালুকায় ইয়াবা সয়লাব!

ভালুকায় ইয়াবা সয়লাব!

বিশেষ প্রতিনিধি : ইয়াবার জোয়ারে ভাসছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা জুড়ে । ভালুকা পৌর সদর থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় ও গ্রামের প্রতিটি এলাকায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়ারা ব্যবসা। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী ও যুবকরা। প্রভাবশালী ও কিছু অসাধু থানা পুলিশের ছত্রছায়ায় এ ব্যবসার পরিধি প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠলেও তা বন্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। ফলে ভালুকা পৌরশহর ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নারীদের বড় একটি অংশও এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকা সত্তেও কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার। অনেক সময় দেখা যায় ডিবি পুলিশের হাতে মাদক ব্যবসায়ীরা আটক হচ্ছে। তাদের নামে হচ্ছে মাদক আইনে মামলাও। মাঝেমধ্যে থানা পুলিশের টহলরত টিম ও সাদা পোষাকধারী পুলিশের হাতে ইয়াবার চালান ধরা পড়লেও জব্ধ তালিকায় উদ্ধারকৃত ইয়াবার সাথে জব্ধ তালিকায় দেখা যায় বড় ধরনের ফাঁক-ফোকর। হিসেবে গোজামিল রেখে উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলো পুনরায় ইয়াবা পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে কয়েক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা অনেকেই তিন বছর ধরে ভালুকা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছে। ইয়াবা বহনকারীর জব্দকৃত প্রাইভেট কার ও মটর সাইকেল গুলো নিয়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা যথেচ্ছ ব্যবহার করছে নিজের খরিদাকৃত গাড়ির মতো। ময়মনসিংহ জেলায় প্রতিনিয়ত র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়ছে ইয়াবার ছোট বড় চালান। পাশাপাশি থানা পুলিশও বসে নেই। তাদের হাতেও নিয়মিত ধরা পড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ইয়াবার চালান। এরপরও প্রতিযোগিতামূলকভাবে পাড়া-মহল্লায় চলছে ইয়াবা বিকিকিনি। ভালুকা পৌরশহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক স্থানে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী। কোন ভাবেই তাদের দমানো যাচ্ছে না। এলাকা ভিত্তিক এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে মাদকের শক্তিশারী সিন্ডিকেট। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক অভিযানের পরও অবাধে চলেছে তাদের মাদকের বাণিজ্য। বর্তমানে শহরে বিভিন্ন স্পটে ইয়াবাসহ মাদকের আগ্রাসন বেড়েই চলছে। ফলে মাদকাসক্ত হয়ে এলাকায় যুব সমাজ প্রতিনিয়ত বিপদগামী হচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন রয়েছেন অভিভাকসহ সচেতন মহল। বিশেষ করে ভালুকা উপজেলা ও পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ ডজনের অধিক জনপ্রতিনিধি সরাসরি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পরও উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো ইয়াবা উদ্ধারের অভিযান চালিয়ে গেলেও অধরাই থেকে যায় প্রকৃত গডফাদাররা। ভালুকা মডেল থানা পুলিশ পৌরসদরসহ পাড়া-মহল্লায় কারা ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন করে তা জানার পর রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে কিছু কিছু মাদকদ্রব্য ও ইয়াবা উদ্ধার করে অপরাধীদের আটক করা হলেও আইনের ফাক-ফোঁকর দিয়ে আটককৃতরা ৩/৪ মাসের ব্যবধানে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশের সোর্সরা এখন মাদক ডেলিভারি ম্যান। ভালুকা পৌরসদরসহ ও আশপাশের এলাকা সমুহে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ইয়াবা বিকিকিনির নিয়মিত হাট বসে। সদরের ফুটপাত, ফলের দোকান, বিড়ি সিগারেটের দোকান, ফুটপাতের রাস্তা ও মার্কেটের অলিতে গলিতে ১৫ থেকে ৩৫ বছর রয়সের অর্ধশতাধিক যুবক প্রকাশ্যে এসব মরণ ঘাতক ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছে। গত কয়েক বছর আগেও যাদের কিছুই ছিলনা! ইয়াবা ব্যবসা করে তারা এখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি গাড়ি ও বাড়ির মালিক। ওইসব ইয়াবার গডফাদাররা সমাজসেবক ও জনদরদি সেজে প্রতিনিয়ত মসজিদ-মন্দিরে দান-সৎকা করতেও দেখা যায়। গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদক কর্মকর্তারা এসব রাতারাতি কোটিপতি হওয়া এসব গাড়ি-বাড়ির মালিক ও নব্য দানবীরদের প্রকৃত আয়ের উৎস খোঁজে বের করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য ভালুকা সতেচন মহল দাবি জানিয়েছেন। ভালুকা পৌর শহরের নাজিম উদ্দিন নামের ব্যক্তি জানান, ভালুকা ওসির আয় মাসে কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন,কয়েকজন পুলিশের এসআই আছেন তারা দীর্ঘদিন ধরে এই থানায় আছেন। তাদের বদলি হলেও কয়েকদিন পরেই আবার চলে আসে। ভালুকা নাকি হাঁসে নাকি সোনার ডিম পাড়ে! ভালুকা মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করছেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest