শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ন

ফুলপুরে কাঁদছে কৃষক! শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য নেই

ফুলপুরে কাঁদছে কৃষক! শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্য মূল্য নেই

নুরুল আমিন, ফুলপুর (ময়মনসিংহ):

খরচই তো উঠছেনা খাইয়ামই কি সংসার চালাইবামই বা কেমনে? ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় এভাবেই হতাশা প্রকাশ করলেন বোর ধান চাষের প্রসিদ্ধ এলাকা ময়মনসিংহের ফুলপুরের পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক রহম আলী। রহম আলীর মত এমন আক্ষেপ উপজেলার শত শত বোরচাষীর। তাদের অনেকেই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বর্গাচাষী। নিজের জমি নাই। অন্যের জমিতে বোর চাষ করে বছরের খোরাকী চালিয়ে সংসারের স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বোর মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে শিলা বৃষ্টি ও মৌসুমী ঝড়ে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় তাদের সে আশায় গুড়ে বালি পড়েছে । এখন পাকা বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। দুই মন ধান বিক্রির টাকা দিয়ে একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। দাম কম উৎপাদন কম আর শ্রমিক সংকটে নাকাল উপজেলার লক্ষাধিক বোরচাষী। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে ভাল নেই ফুলপুরের কৃষক।

 

শ্রমিক না পেয়ে স্বামী স্ত্রী ধানকেটে আনছে

শ্রমিক না পেয়ে স্বামী স্ত্রী ধানকেটে আনছে

ফসল ঘরে তোলার শুরুতে ঘূর্ণিঝড় অসনির প্রভাবের আশঙ্কার খবরে মাথায় হাত পড়েছে তাদের। প্রতিদিন সকালে ফুলপুর উপজেলা শহরের শেরপুর রোডের মোড়ে ক্ষেত শ্রমিকের হাট বসে। আশপাশ উপজেলা থেকে শ্রমিকরা দল বেধে এ হাটে শ্রম বিক্রির জন্য বসে থাকে রোববার শ্রম বিক্রির এ হাটে গিয়ে দেখা যায় শ্রমিক সংকটে পড়া কৃষক ১২০০ থেকে ১৪০০টাকা জন প্রতি শ্রমিক নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সকাল আটটার মধ্যেই সকল শ্রমিক কাজ পেয়ে যাওয়ায় শ্রমিক না পেয়ে অনেক কৃষককে শ্রমিক না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। আব্দুর রশিদ নামে জনৈক কৃষক জানান এক মণ ধান বিক্রি করতে হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।এ হিসেবে মন ধান বিক্রির টাকা দিয়েও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে দাম কম, অন্যদিকের শ্রমিকের মূল্য বেশি, তার উপর ধান পাকার আগ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি ও মৌসুমী ঝড়ে ফসলের ক্ষতি, সব মিলিয়ে এবার ফসলের উৎপাদন খরচ হাতে আসবে না বলে জানান অনেক বোরচাষী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত হেক্টর জমির ধান কাটার সময় হলেও শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষক তাদের পাকা ধান ঘরে ঘরে তুলতে পারছেন না ।

উপজেলার দিও গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক হোসেন আলী। রট টিন ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ২৭ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে বোর চাষ করেছেন। ১৪ শ টাকা রোজ কামলা (শ্রমিক) দিয়ে ধান কাটলে প্রতি কাটায় ৫শ টাকা লস হয়। তাই স্ত্রী-পুত্র নিয়ে নিজেই ধান কাটছেন। সোমবার তার জমিতে গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী রমিজ খাতুন ক্ষেত থেকে কাটা ধানের মুঠি নিয়ে বাড়ির দিকে আসছে। উপজেলার পয়ারীর ইউনিয়নের ইমাদপুর কৃষক আবু মোন্নাফ জানান ধান পাকার আগমুহূর্তে শিলা বৃষ্টি ঝরে তার বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । অনেক ধান চিটা হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। সিংহেশ্বর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শাহজাহান পুলিশ বলেন, তার জমিতে ফলনও হয়েছে তবে শ্রমিক সংকটের কারনে পাকা ধান কাটতে পারছেন না তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২২ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে শিলাবৃষ্টি ও বৈশাখী ঝরে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে সার্বিক উৎপাদনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে শ্রমিক সংকটে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ভর্তুকি মূল্যে যে ধান কাটার হারভেস্টার মিশিন দেয়া হয়েছে তা দিয়ে অনেক কৃষক উপকৃত হচ্ছেন বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তবে কৃষকগন । সর্বশেষ খবরে জানা গেছে ফুলপরে কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া প্রায় সবগুলো হারভেস্টার মিশিন অধিক লাভের আশায় অন্য উপজেলায় চলে গেছে। বারবার মোবাইল করো তাহলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest