শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৫১ অপরাহ্ন

ত্রিশালে আয়া ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ত্রিশালে আয়া ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

আজিজুর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়া ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ । এই ঘুষের ভাগ বাটোয়ারার অংশ নেন উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির কমিটির সভাপতি , প্রতিষ্ঠান প্রধান অর্থাৎ সুপার ও প্রধান শিক্ষক, উপ – পরিচালক, ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঝিল্লুর রহমান আনম এবং রাজনৈতিক সরকার দলীয় প্রভাবশালী একজন নেতা । অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের নামের রয়েছে পৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন মামলা। নিয়োগ কমিটির এক সভাপতির বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ মামলা । এক সরকার দলীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতিটি নিয়োগে ১ লাখ টাকা নেন । তাকে টাকা দেয়া না হলে তিনি বেনামে অভিযোগ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে দেন অথবা কোন্দল সৃষ্টি করেন । ত্রিশাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঝিল্লুর রহমান আনম এর ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হওয়ায় ক্ষোদ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বিব্রত । এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ থাকলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি বিষয়গুলিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সদর্পে নিয়োগ পক্রিয়া সম্পন্ন করেন । এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক শাখাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ থাকলেও তদন্ত না হওয়ায় তিনি ভ্রুক্ষেপ করেন না । সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঝিল্লুর রহমান আনম জানান, আমি খুবই অসহায় । রাজনীতির চিপায় পড়েছি । উনার কথাতেই চলি । প্রসঙ্গত. ইতিপূর্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয় । সংবাদে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে শিক্ষক এমপিওভুক্ত , শিক্ষক , দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষকদের এমপিও পেতে এই কর্মকর্তাকে ঘুষ না দিলে ফাইল পার হয় না । এমপিওভুক্তিতে ঘুষ দিতে অপরগতাকারী শিক্ষকরা এই অফিসারের হয়রানি শিকার হয়েও প্রতিবাদ করার সাহস পান না । স্থানীয় প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক দলের নেতার ডিও লেটারে ত্রিশালে আসায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেন না । তবে নতুন এমপিও পেতে গিয়ে উপজেলার প্রায় সকল শিক্ষককেই ঘুষ দিতে হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানিয়েছেন । জানা যায়, বিগত সময়ে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ ত্রিশালে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে যোগদান করেন ঝিল্লুর রহমান আনম । ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় বদলী করা হয় । সেখানে এক বছর থাকার পর একজন সাংসদের অদৃশ্য ছায়ায় ডিও লেটারে তিনি আবারও ত্রিশালে যোগদান করেন । জানা যায়, ইতিপূর্বে ত্রিশালের কিছু শিক্ষকদের এমপিরওর কাগজপত্র ত্রুটি বিচ্যুতি থাকায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে সেহিসাবে কাজপত্রাদি প্রেরণ করেন এই কর্মকর্তা । ঘুষ পাওয়ায় তন্মধ্যে ৫০ জনের ত্রুটি বিচ্যুত থাকার পরও এমপিওভূক্তি হয় । অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকদের নিকট থেকে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন । একইভাবে ২০১৯ সালে ৭০ জনের নিকট থেকেও একই কায়দায় কাগজপত্র ত্রুটি বিচ্যুতি থাকার পরও এমপিরভূক্ত করে মোটা টাকা কামিয়ে নেন । তার কাছে ঘুষ দিলেই এমপিও হয় । ঘুষ না দিলে শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest