শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

এমপি হাজী সেলিমের ক্ষমতার অপব্যবহার

এমপি হাজী সেলিমের ক্ষমতার অপব্যবহার

খায়রুল আলম রফিক :
পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে আইনশৃঙ্খাবাহিনী ও দেশের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা দাবি করেছেন।

মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গাড়িচালককে নেয়া হয় রিমান্ডে। হাজী সেলিমের বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি, মদ, ওয়াকিটকি ও হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় হাজী সেলিমের বাড়িতে একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। এসময় টর্চার সেল থেকে মানুষের হাড় উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় হ্যান্ডকাফ ও দড়িও।

গতকাল রাতে চকবাজারের মদিনা আশিক টাওয়ারের ১৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে এসব জিনিস উদ্ধার করে র‌্যাব।

এর আগে সন্ধ্যায় র‌্যাবের মুখপাত্র লে. ক. আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাড়ির পাশে চকবাজারে আরও একটি টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব।

সেলিমের লোকজন র‌্যাব ও ডিবি পরিচয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মানুষকে কন্ট্রোল রুমে (টর্চার সেল) ধরে নিয়ে যাওয়া অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে হাজী সেলিম তার ব্যবহার করা স্টিকার ও পতাকাযুক্ত গাড়ি অন্যকে দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন বলে দাবি করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, সংসদ সদস্যের গাড়ি পরিবারের অন্য যেকোনো সদস্য ব্যবহার করতে পারবেন তবে সেই গাড়িতে অবশ্যই অনুমোদনের বিষয়টা থাকতে হবে।

তবে যে গাড়িতে রাষ্ট্রীয় স্টিকার এবং পতাকা রয়েছে তা ওই সাংসদ ব্যতীত অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। যারা গতকাল হাজী সেলিমের গাড়িটি ব্যবহার করেছে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছে।

যারা গাড়ি থেকে বের হয়ে নাগরিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন চালিয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি মারাত্মক অপরাধ। একজন সংসদ সদস্য যদি গাড়িতে থাকেন তার উপস্থিতিতেও কোনো নাগরিকের ওপর নির্যাতন করা অন্যায়। আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারবে না।

কিন্তু সমপ্রতি আমাদের দেশে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, অবৈধভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করছেন। অন্যকে গাড়ি দিয়ে হাজী সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই দণ্ডের পাশাপাশি দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করা হবে।

গত রোববার রাতে ধানমন্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গতকাল একটি মামলা হয় থানায়।

তাতে ইরফান সেলিম ছাড়াও হাজী সেলিমের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ ও মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খান।

এর আগে ঢাকা-৭ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পৈতৃক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ রাখা অস্ত্র, গুলি, মদ, ওয়াকিটকি ও হাতকড়া উদ্ধার করে র্যাব।

এছাড়া তার শয়নকক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। অভিযানে র‌্যাবের ৪০০-৫০০ সদস্য অংশ নেন। ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

গতকাল দুপুর ১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চকবাজারের ২৬ নম্বর দেবীদাস ঘাট লেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাংসদপুত্র মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে আটক করাকালে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওইসব দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, চকবাজারের ২৬ নম্বর দেবীদাস ঘাট লে?নের ওই বাড়ির চতুর্থ ও পঞ্চম তলাটি ডুপ্লেক্স সিস্টেমে নির্মাণ করা হয়েছে। চতুর্থ তলার উত্তর কর্নারের রুমটিতে বসবাস করতেন এমপিপুত্র ইরফান সেলিম।

জানা গেছে, পুরান ঢাকা এলাকা ২৪ ঘণ্টা মনিটোরিং করতে হাজী সেলিমের বাসায় গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিসহ অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম।

কন্ট্রোল রুমে রয়েছে আধুনিক ভিপিএস (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার), ৩৮টি ওয়াকিটকি, ড্রোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস। রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট বাহিনীর কাছে যেসব সরঞ্জাম থাকে, সেরকম সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এখানে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হতো বলে র‌্যাবের ধারণা। বিদেশি অস্ত্র, হ্যান্ডকাফ ও মদও জব্দ করেছে র্যাব।

‘কন্ট্রোল রুম’ বিষয়ে র্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, হাজী সেলিমের আটতলা ভবনের তিন ও চারতলা থেকে জব্দ সব সরঞ্জাম অবৈধ। এ ধরনের ওয়াকিটকি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ। সাধারণত ভিপিএস ব্যবহারের অনুমোদন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা। বিটিআরসি এই অনুমোদন দেয়।

তবে হাজী সেলিম কোনো অনুমোদন নেননি। একজোড়া হ্যান্ডকাফও উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাবের ধারণা, এই হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হাজী সেলিমের লোকজন র্যাব ও ডিবি পরিচয় দিয়ে মানুষকে ধরে নিয়ে যেত।

সাদা রঙের ৯তলা ওই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ইরফান সেলিম থাকেন জানিয়ে র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই।

আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।’
এর আগে হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেয় আদালত।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গাড়িচালক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ‘আমি মারধর করিনি, মারধর করেছে সিকিউরিটি গার্ড জাহিদ। আমি তো এক সপ্তাহ আগে হাজী সেলিমের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি নেই। ঘটনার সময় দুই পক্ষই একপক্ষ আরেক পক্ষকে মারধর করেছে।’

হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের দেহরক্ষীকেও হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করে জানান, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করে।

তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেয়ার এবং হত্যার’ হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এমপির গাড়ি ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়। এদিকে ওই ঘটনা মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা নিজেকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ বলে পরিচয় দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন।

নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে রক্তাক্ত মুখে বলতে শোনা যায়, তিনি পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে, তার স্ত্রীর গায়েও ‘হাত দিয়েছে’।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ওই গাড়িটি সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান সেলিম, নিরাপত্তারক্ষীসহ পাঁচ-ছয়জন ছিলেন। এ ঘটনায় ইরফান সেলিমকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন, একজন সংসদ সদস্যের গাড়ি পরিবারের অন্য যেকোনো সদস্য ব্যবহার করতে পারবেন তবে সেই গাড়িতে অবশ্যই অনুমোদনের বিষয়টা থাকতে হবে।

যে গাড়িতে রাষ্ট্রীয় স্টিকার এবং পতাকা রয়েছে তা ওই সংসদ ব্যতীত অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যারা গতকাল হাজী সেলিমের গাড়িটি ব্যবহার করেছে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন।

এছাড়া যারা গাড়ি থেকে বের হয়ে নাগরিকের ওপর হামলা-নির্যাতন করেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি মারাত্মক অপরাধ। একজন সংসদ সদস্য যদি গাড়িতে থাকেন তার উপস্থিতিতেও কোনো নাগরিকের ওপর নির্যাতন করা অন্যায়।

আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারবে না। কিন্তু সমপ্রতি আমাদের দেশে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, অবৈধ ক্ষমতাকে ব্যবহার করছে।

গতকাল হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান নিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি বলব হাজী সেলিমের ভাগ্য খারাপ কারণ আমরা এখন দেখছি স্বাভাবিকভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতার বাসায় অভিযান চালালে মদ-বিয়ার অস্ত্র থাকে। কিন্তু বলতে হয় আমরা যারা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানাচ্ছি তারা অযোগ্য আমরা আজ লজ্জিত হচ্ছি।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের গাড়ির দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি হচ্ছে অনুমোদন করে নেয়া আরেকটি হচ্ছে স্টিকার ও পতাকা লাগানো।

এ ক্ষেত্রে অনুমোদন করা গাড়ি অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারলেও স্পিকার ও পতাকা লাগানো গাড়িটি সংসদ সদস্য ব্যতীত অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। এটি আইনের অনুমোদন নেই।

এছাড়া সংসদ সদস্যর গাড়ি থেকে নাগরিকের ওপর হামলা এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারা এ কাজটি করেছে তারা সন্ত্রাসী আচরণ করেছেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারে না এ অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি।

অন্যকে গাড়ি দিয়ে হাজী সেলিম ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন যা রাষ্ট্রের নিরপত্তার হুমকি মন্তব্য করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইসফাক ইলাহী বলেন, একজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে কিছু সন্ত্রাসী সংসদ সদস্য গাড়ি থেকে নেমে যে আচরণ করেছেন তা নিন্দনীয় ভাষা প্রকাশের যোগ্য না।

এভাবে সংসদ সদস্যর গাড়ি থেকে বের হয়ে কারো ওপর হামলা-নির্যাতন করা যাবে না, যায় না। বিশেষ করে সংসদের স্টিকার পতাকা ব্যবহারকারী থেকে প্রশ্নই উঠে না।

ক্ষমতার অপব্যবহার যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় আমি অভিনন্দন জানাবো সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। তাদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনেছে। এটি প্রশংসার দাবি রাখে। আশা করছি, তাদের দ্রুত বিচার হবে।

ভবিষ্যতে এভাবে আর কেউ যাতে ঘরে অবৈধ অস্ত্র না রাখতে পারে, ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে সরকার সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখবে। এ সমস্ত ক্ষমতাসীনদের আচরণ রাষ্ট্রের জন্য দেশের কল্যাণের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে। হাজী সেলিম ও তাই করেছেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest