সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

ইজারাদার নিয়োগে জালিয়াতি

ইজারাদার নিয়োগে জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে শাহ আমানত মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গার ইজারা নিয়ে চরম জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এক ইজারাদার ইজারা পেলেও দেয়া হয়েছে আরেকজনকে। জালিয়াতিতে জড়িত চসিকের সহকারী এস্টেট অফিসার এখলাস উদ্দীন ও এস্টেট শাখার সহকারী মো. জাহাঙ্গীরকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম স্বাক্ষরিত নোটিসে তিন দিনের মধ্যে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চসিকের মালিকানাধীন নগরীর শাহ আমানত মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গা ইজারা নেয়া ব্যক্তিকে না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে নামের মিল রেখে অপর ব্যক্তিকে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত মার্কেটের পার্কিংটি ১৪২৩ বাংলা সনের জন্য ইজারা পেয়েছিলেন হাজি আবদুল মাবুদের ছেলে দিদারুল ইসলাম। পরবর্তী ১৪২৪ ও ১৪২৫ বাংলা সনেও ইজারা পান তিনি। কিন্তু ১৪২৬ বাংলা সনে ইজারা দেয়া হয় মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে দিদারুল ইসলামকে।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা একই ব্যক্তি নন, তাদের স্বাক্ষর ও ঠিকানাও ভিন্ন। কিন্তু সহকারী এস্টেট অফিসার এখলাস উদ্দীন মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে দিদারুল ইসলামকে ১৪২৬ বাংলা সনের ইজারাদার উল্লেখ করে ১৪২৭ ও ১৪২৮ বাংলা সনের জন্য পার্কিংটি ইজারা দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেছেন। এতে করে তিনি এই ব্যক্তি থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আবদুল মাবুদের ছেলে দিদারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় শাহ আমানত মার্কেটের কার পার্কিংটি পাওয়ার জন্য বারবার আবেদন করলেও তার সেই আবেদন নথিভুক্ত করা হয়নি।

এছাড়াও আর কেউ লিজের জন্য আবেদন করেছে কি না তা জানতে চাইলে কেউ করেনি বলে সেই সময়ে তিনি জবাব দিয়েছেন। এমনকি কোনো শর্তও ভঙ্গ করেননি বলেও লিখিত মতামত দেন এখলাস উদ্দীন।

প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দেয়া নোটিসে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে দিদারুল ইসলাম প্রকৃত ইজারাদার নয়। তিনি একজন ভুয়া ইজারাদার। তাকে প্রকৃত ইজারাদার বানিয়ে ১৪২৬ ও ১৪২৭ বাংলা সনের জন্য শাহ আমানত মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গাটি ইজারা দেয়ার জন্য প্রস্তাব করেন সে সময়ের সহকারী এস্টেট অফিসারের দায়িত্বে থাকা এখলাস উদ্দীন।

মিথ্যা তথ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুয়া ইজারাদারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। এমন অপরাধে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা নোটিস পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে নোটিসে।

অভিযোগ রয়েছে, চসিকের এস্টেট অফিসার হিসেবে কাজ করার পর থেকে বাজার ইজারা থেকে শুরু করে সব জায়গা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা চলে আসতো এখলাস উদ্দীনের পকেটে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. শামসুদ্দোহার প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এখলাস।

কুরবানি পশুর বাজার ইজারা দেয়ার সময়ও চলে তার অনৈতিক কাজ কারবার। আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইজারা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চসিক প্রশাসক হিসেবে খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১২ আগস্ট এখলাস উদ্দীনকে বদলি করা হয় রাজস্ব সার্কেলে। কিন্তু এর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই অদৃশ্য ইশারায় আবারো তাকে এস্টেট শাখায় নিয়ে আসা হয়। অথচ তাকে আবারো এস্টেট শাখায় আনার বিষয়ে জানতেন না এই বিভাগের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম।

জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম বলেন, আমরা জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ পেয়েছি। তার ভিত্তিতে তাদের দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছি। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। জবাব হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জানা যায়, তাকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এস্টেট শাখা থেকে তাকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তার একক ক্ষমতায় তাকে আবারো এস্টেট শাখায় নিয়ে আসেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের সহকারী এস্টেট অফিসার এখলাস উদ্দীনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের বিষয়ে চসিকের এস্টেট শাখার সহকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমি চিঠি পাইনি এখনো। পেলে বলতে পারবো


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest