শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

সিজারের সময় নবজাতকের পেট কেটে ফেলল চিকিৎসক

সিজারের সময় নবজাতকের পেট কেটে ফেলল চিকিৎসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ফারজানা আক্তার (২২) নামের এক প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে জেলা শহরের কাউতুলী এলাকার দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

ফারজানা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার আখাউড়া উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বাউতলা এলাকার তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনার হাসপাতালের চিকিৎসক-মালিকসহ সবাই পালিয়ে গেছে।

ফারজানা আক্তারের স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে রোববার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে নিয়ে আসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক দালালের খপ্পরে পড়ে দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে আমার স্ত্রীকে সিজারিয়ান করতে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা চুক্তি হয়। এরপর সেখানে মারুফা রহমান নামের একজন চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশন করলে আমার স্ত্রী একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। কিন্তু নবজাতকের পেটের একপাশে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা জানান- নাভি কাটকে গিয়ে কাচির আঘাত লেগেছে।

বিষয়টি জানতে পেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা সিভিল অফিসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে আসেন। তবে তাদের আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে যাই। হাসপাতালটির কোনো লাইসেন্স নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, শিশুটির পেটে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তেমন গুরুতর নয়; অদক্ষতার কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। রোববার সকালেও দুইটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রকার প্যাথলজি টেস্ট করা হয় কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালের ল্যাবে পাওয়া যায়। হাসপাতালটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ বেসরকারি হাসপাতালটিকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest