বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:০৪ অপরাহ্ন

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা অভিযোগ

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, প্রাইমারি স্কুলের প্রশ্নপত্র ফাঁস, জুয়ার আসরে বসাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক স্ত্রী শিউলি সুলতানা।

এ নিয়ে তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলা করেছেন। আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে কাহালু থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কাহালু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার আয়রা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিউলী সুলতানার সঙ্গে ১৯৯৮ সালে মোফাজ্জল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শিউলীর পরিবার থেকে ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং এক লাখ টাকা উপঢৌকন হিসেবে দেয়া হয়। তাদের বিবাহিত জীবন ভালোই চলছিল। এর মধ্যে তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তানও জন্ম নেয়।

কিছুদিন পর নতুন করে যৌতুক চেয়ে স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকেন মোফাজ্জল। বিয়ষটি শিউলী তার বাবাকে জানান। বাবা অনেকবার মোফাজ্জলকে বুঝিয়েছেন। কাজ হয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে স্ত্রী শিউলীকে তা দেখিয়ে যৌতুকের টাকা না দিলে বিয়ের হুমকি দেন মোফাজ্জল। তিনি বলেন- ‘অনেক সুন্দরী আমার জন্য বসে আছে।’ এভাবে শিউলীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। চালান শারীরিক নির্যাতনও।

একপর্যায়ে ২০০৭ সালের শেষের দিকে মোফাজ্জল রিক্তা নামে এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকাকে বিয়েও করেন স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই। কিছু দিন পর মোফাজ্জল দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছেও যৌতুক দাবি করতে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে একপর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি হলে মোফাজ্জল রিক্তা নামে ওই ওই শিক্ষিকাকেও তালাক দেন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শিউলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তখনও একটি মামলা করেছিলেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর সেই মামলা নিষ্পত্তি হয়।

সস্প্রতি আবারও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে শিউলীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন মোফাজ্জল। একপর্যায়ে শিউলীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। শিউলী বাবার বাড়িতে চলে যান। শিউলীর বাবা বিষয়টি মীমাংসার জন্য মোফাজ্জল, তার বড় ভাই এবং পাড়ার লোকজন নিয়ে বসলে সেখানেও তিনি টাকা দাবি করেন।

একপর্যায়ে শিউলীর বাবা কিছু দিন সময় চেয়ে টাকা দিতে রাজিও হন। কিন্তু মোফাজ্জলের কথা বৈঠকেই পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দিতে না পারায় মাসখানেক আগে শিউলীকে তালাক দেন মোফাজ্জল। তিনি এখন তৃতীয় বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শিউলি সুলতানা বলেন, আমি নিজে সাক্ষী, আমার সামনে সে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রি করেছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অবৈধ সম্পর্ক করা তার পেশা। কিছুদিন আগে একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকাকে এভাবে বিয়েও করেছিল মোফাজ্জল। তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখলে অসংখ্য অপরাধের আলামত মিলবে।

তবে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এসব সাজানো নাটক। আমি আমার শ্বশুরের জমি ক্রয় করার জন্য টাকা দিয়েছি। তিনি আর পরে জমি লিখে দেননি। সেই টাকা ফেরত চাওয়ায় তারা নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছে। তিনি প্রশ্ন ফাঁস এবং নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest