বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজারের জুড়ীর ইউএনও পরিচয়ে টাকা আদায়ে সক্রিয় প্রতারকচক্র

মৌলভীবাজারের জুড়ীর ইউএনও পরিচয়ে টাকা আদায়ে সক্রিয় প্রতারকচক্র

আব্দুল বাছিত খান,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের জুড়ীর ইউএনও ও স্যানিটারি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চায় প্রতারকচক্র। বিষয়টি জেনে শনিবার রাতে জুড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের সদস্য (১নং ওয়ার্ড) জামাল উদ্দিন সেলিম তার মোবাইল ফোন দিয়ে ফুলতলা বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী আশিষ চক্রবর্তীকে ফোন করে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সাথে কথা বলতে বলেন। আশিষ মোবাইলে কথা বলতে শুরু করলে অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে স্যানিটারি অফিসার পরিচয় দেয়। পরে তার মিষ্টির দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান। আশিষ তাকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি বলেন জুড়ীর ইউএনও তাকে বলবেন। কিছুক্ষণ পর স্যানিটারি অফিসার পরিচয় দেয়া ব্যক্তি ০১৭৮১-১৮২৫০৩ নম্বর ফোন থেকে আশিষের ফোনে ফোন করে জানান ইউএনও এখন তাকে ফোন দিবেন। পরে ০১৭৩১-৫৯৯৪৬৬ নাম্বার দিয়ে আরেক ব্যক্তি ইউএনও পরিচয় দিয়ে আশিষকে ফোন করে বলেন ১ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানার ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে উক্ত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এসময় আশিষ ফোন কেটে দিয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান রুহুল ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, এটা তার মোবাইল নম্বর নয়, তার নাম ব্যবহার করে হয়তো এলাকার কোন প্রতারক চক্র ফোন দিয়েছে। এ ঘটনায় আশিষ চক্রবর্তীর চাচাতো ভাই কামনাশীষ চক্রবর্তী জুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন সেলিম বলেন, আমি বাগানের একটি মিটিং-এ ছিলাম। এসময় এক ব্যক্তি আমাকে ফোনে ইউএনও পরিচয় দিয়ে আমার এলাকার মিষ্টির দোকানের মালিকদের সাথে জরুরী ভিত্তিতে কথা বলতে চান। পরবর্তীতে আমি বাজারে এসে মিষ্টির দোকানের মালিকদের সাথে আমার ফোন দিয়ে কথা বলিয়ে দেই। এ সময় ঐ ব্যক্তি তাদের সবার কাছ থেকে ফোন নাম্বারও নেন। বাড়িতে আসার পরে জানতে পারি এটা প্রতারক চক্র। সাথে সাথে নাম্বারটিতে ফোন দিয়ে বন্ধ পাই। তিনি আরোও বলেন, আপন মিষ্টি ঘরের মালিক আব্দুল বারি প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়ে বিকাশে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, এ ব্যাপারে জিডি করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান রুহুল ইসলাম বলেন, কয়েকজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি প্রতারক চক্র ইউএনও নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করছে। তাদেরকে থানায় জিডি করতে বলেছি। আমি বিষয়টি জুড়ী থানার ওসিকে জানিয়েছি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest