বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:২৫ অপরাহ্ন

মামলার আসামি কেন্দুয়া থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

মামলার আসামি কেন্দুয়া থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার

কেন্দুয়া থানায় একটি টেবিলের ওপর আমাকে জোরপূর্বক শোয়ানো হয়। এরপর টেবিলের চারকোনার সাথে বাধা হয় আমার হাত-পা। পায়ুপথে ও গোপনাঙ্গে লাগানো হয় মরিচের গুড়া। দুই পায়ের আঙ্গুলে দেয়া হয় সূচের আঘাত। সঙ্গে বেতের লাঠির আঘাত। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে নিজেকে আবিস্কার করি হাসপাতালে। কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী কেন্দুয়া গোলাম মোস্তফা। যিনি কেন্দুয়া ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ১১ নং চিরাং যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। গোলাম মোস্তফার ওপর ওসি রাশেদুজ্জামানের এহেন নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন কেন্দুয়ার জনগন। মানববন্ধন থেকে তারা ওসি রাশেদুজ্জামানকে কেন্দুয়া থানা থেকে দ্রুত প্রত্যাহার চেয়ে পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান।

ওসি রাশেদুজ্জামানের দ্বারা নির্যাতনের শিকার গোলাম মোস্তফা কেন্দুয়া আমলী আদালত নেত্রকোনায় গত ৩১ আগষ্ট একটি সি আর মামলা (নং ৯৩ (১)২০২০ দায়ের করেন। উক্ত আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করতে কেন্দুয়া থানাকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে কেন্দুয়া থানায় সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। মামলা নং ৯ (৯) ২০২০। ধারা ৩২৩/৩২৪/৫০০/৩৪২/৩০৭ দন্ডবিধিসহ ৫(১)২০১৩ সালের নির্যাতন হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইন।

মামলার আরজিতে বাদী গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামানের বিভিন্ন অপকর্ম তুলে ধরে তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মহা মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিস্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া অপরএক ভুক্তভোগীর একই ধরনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজির কাছে সাক্ষী দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন ওসি রাশেদুজ্জামান। এরই প্রেক্ষিতে গত ৪ জুন একটি বিচার মজলিস থেকে মোস্তফাসহ ৮ জনকে তুলে নিয়ে যায় ওসি রাশেদুজ্জামান। ওই সময় শালিস বৈঠকের একটি কক্ষে তাস ছিটিয়ে সেগুলোর ছবি তুলে ওসি। পরে জুয়া খেলার অপরাধ দেখিয়ে সকলকে থানায় নিয়ে যায়।

ভ’ক্তভোগী গোলাম মোস্তাফা মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করেন, থানার একটি কক্ষে থাকা টেবিলের ওপর শোয়ানো হয়। এরপর রশি দিয়ে হাত-পা টেবিলের সাথে বেঁধে ফেলে নিষ্টুর নির্যাতন করে। গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথে মরিচের গুড়া দেয়ার পর পায়ের আঙ্গুলে সূই ফোটানো হয়। সঙ্গে লাঠি দিয়ে নির্যাতন করেন ওসি রাশেদুজ্জামান। জ্ঞান হারালে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে নেয়া হয় পুলিশ প্রহরায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবার থানায় নেয়া হয়। জুয়া খেলার অপরাধের সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন কোর্টে পাঠায়। সেখান থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা হলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওসি রাশেদুজ্জামান। উল্টো মামলার বাদীকে দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এরই প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারন ওসির প্রত্যাহার চেয়েছেন। জনসাধারনের অভিযোগ, গোলাম মোস্তফার দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন একজন এডিশনাল এসপি। তদন্ত চলাকালে এজাহারভূক্ত আসামি ওসি রাশেদুজ্জামান সেখানেই থাকেন। এতে করে চলমান মামলার সুষ্ঠু তদন্তে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আগে ওসি রাশেদুজ্জামানের প্রত্যাহার দাবি করেন।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest