বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

বাজেটে বিড়ির উপর ধার্যকৃত অতিরিক্ত ৪টাকা মূল্যস্তর, প্রতাহারের দাবীতে রংপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

বাজেটে বিড়ির উপর ধার্যকৃত অতিরিক্ত ৪টাকা মূল্যস্তর, প্রতাহারের দাবীতে রংপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

রংপুর প্রতিনিধি :
২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে মূল্যস্তর ৪টাকা বৃদ্ধি ও নি¤œস্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের মূল্যস্তর মাত্র ২টাকা বাড়ানো ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের কোন মূল্য বৃদ্ধি না করার প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহত্তর রংপুর জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে গতকাল সোমবার সকাল ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পাশে ও সুরভী উদ্যানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের কান্ডারী হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রধানমন্ত্রী ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও পরিচিত হয়েছে। তার সুদক্ষ পরিচালনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে অনুকরণীয় হয়ে দাড়িয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি খেতাবে ভূষিত হয়েছে। গরিব, দুঃখী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে ছায়ার মত কাজ করছেন। বক্তারা আরও বলেন, সমাজের অসহায় বিড়ি শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবের জন্য এবং তাদের কর্ম রক্ষার্থে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের বাজেটে তিনি মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিড়ি আমাদের, সাধারণত গরীব মানুষ ব্যবহার করে, মহিলা শ্রমিক ও সাধারণ শ্রমিক একটা শ্রমের সুযোগ পায়, তারা কাজ পায়। এখানে বিড়ির উপর কর কমিয়ে, মূসক বৃদ্ধির প্রস্তাব বাদ দিয়ে বরং সিগারেটের উপর একটু বেশি করে বাড়িয়ে দিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশকে অমান্য করে এবারের বাজেটেও বহুজাতিক কোম্পানীর আগ্রাসনে বিড়ির প্রতি প্যাকেটে বৈষম্যমূলক মাত্রারিক্তি মূল্যস্তর বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জন্য বিড়ির উপর অর্পিত বাজেটটি মরার উপর খঁড়ার ঘা হয়েছে। তারা আরও বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে মূল্যস্তর ৪টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, নি¤œস্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের মূল্যস্তর মাত্র ২টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও মধ্যম স্তরের সিগারেটের কোন মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। এটা অত্যান্ত বৈষম্যমূলক ও জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
বক্তারা বলেন, বিড়ি শিল্পে নদী ভাঙ্গন বা চর এলাকার অসহায় বিধবা/স্বামী পরিত্যক্তা ও পঙ্গু শ্রমিকরা কাজ করে। বিড়িতে অতিরিক্ত শুল্কারোপের ফলে বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিকল্প কাজ না পেয়ে শ্রমিকরা বেকার জীবন যাপন করছে। গরীব, দুঃখী, অসহায় ও মেহনতী মানুষের নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রংপুর জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের দাবীগুলো হচ্ছে- ১. ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে বিড়ির প্রতি প্যাকেটে বৃদ্ধিকৃত ৪টাকা মূল্যস্তর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। ২. বিড়ি শ্রমিকদের সপ্তাহে ৬দিন কাজের ব্যবস্থা করা। ৩. বিড়ির উপর অর্পিত ১০% আয়কর প্রত্যাহার করা, ৪. বঙ্গবন্ধুর চালুকৃত বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে রাখতে হবে।, ৫, বঙ্গবন্ধুর আমলে বিড়িতে ট্যাক্স ছিল না, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েও আশা করি ট্যাক্স থাকবে না।
মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি এবং হারাগাছ বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এমকে বাঙালী, সাধারণ সম্পাদকু আব্দুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক হেরিক হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলু, হারাগাছ বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, হারাগাছ প্যাকিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে প্রায় একই দাবীসমূহ উল্লেখ করে দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest