বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

ফুলপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভুয়া ভাউচারে অনিয়ম

ফুলপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভুয়া ভাউচারে অনিয়ম

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) থেকে :

ফুলপুর উপজেলায় অর্থবছর শেষ হয়ে গেলেও ফুলপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তড়িঘড়ি করে ভাউচার দিয়ে কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব চালিয়েছে। অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ এর অন্যান্য ভবন স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত ২১টি বিদ্যালয়ের সমূদয় টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

রাজস্ব তহবিল ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্প থেকে ফুলপুর ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। নামমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে ফুলপুর উপজেলার উপকার্যসহকারী প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইনি মারপ্যাচে সমস্ত টাকায় লোপাট করেছে ফুলপুর শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১১৯টি বিদ্যালয়ে যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০০ সেখানে স্লিপ বরাদ্দ ৫০ হাজার টাকা। আবার শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০০-৫০০ পর্যন্ত হলে সেখানে বরাদ্দ ছিল ৭০ হাজার টাকা। ওয়াশ ব্লুক প্রকল্পে ৬১টি বিদ্যালয়ে সিঙ্গেল ১০ হাজার টাকা। ওয়াশ ব্লুক প্রকল্প ডাবল হলে ২০ হাজার টাকা।

রুটিন প্রকল্প মেরামত বাবদ ৬৫টি বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার টাকা। দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে ৫৪ হাজার টাকা। সাজানো-গোছানো প্রকল্পে ১১৯টি বিদ্যালয়ে ১০ হাজার করে বরাদ্দ দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবার জুন মাসে টাকা উত্তোলন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতির নামে যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই কোনো কোনো বিদ্যালয়ে কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান। তারা আরো জানান, প্রতি বছর প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সাজানো-গোছানো এবং উপকরণ ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা প্রতি বছর উপকরণ ক্রয় করেন না। একবার ক্রয় করে সেগুলো আলমিরায় সংরক্ষণ করে রাখেন। কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হলে এগুলো দেখিয়ে বারবার পার পেয়ে যান। নাম প্রকাশ না করা সূত্রে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে প্রতি বছর জুন মাস এলেই এ রকম মার-প্যাচের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে রাখা হয়, যা পড়ে যেনতেন কাজ করে টাকা উঠিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করে।

ফুলপুর পৌর শহরসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহী দিলসান (এলিন) অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, বেশির ভাগ টাকা অর্থবছরের শেষ দিকে মে-জুন মাসে আসে। তখন এ অর্থবছর প্রায় শেষ হয়ে যায়। তখন পরিকল্পনা মাফিক এসব কাজ শেষ হয়ে উঠে না। এ জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যৌথ নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকে। ওই বরাদ্দ তাদের অ্যাকাউন্টে চলে যায়।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest