রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিলাসী জীবন!

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিলাসী জীবন!

মো: কামাল হোসেন,ময়মনসিংহ :
ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর দায়িত্বে থেকে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে । রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী ঘুষ-দুর্নীতির সিন্ডিকেট । বদলি বাণিজ্য, শিক্ষকদের হয়রানি, ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি । সুন্দরী শিক্ষিকাদের পৌর এলাকার আশেপাশে পোস্টিং আবার বয়স্ক ও প্রবীন শিক্ষকদের দুর্গম এলাকায় পোস্টিং দেয়া নিয়েও রয়েছে তার বিরুদ্ধে আলোচনা সমালোচনা । উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার নিয়োজিত রয়েছে কয়েকজন দালাল । এই দালালদের মাধ্যমে ফাইল উত্থাপতি না হলে কোন কাজই তিনি করেন না । হুংকার দেন, এখানে আমার খুঁটির জোড় শক্ত । আমাকে কেও বদলী করতে পারবে না । একবার করেছিল আবার চলে এসেছি । ত্রিশালের স্কুলগুলোতে দেয়ালে অংকন করার নামে অর্থ আত্বসাত, মনগড়াভাবে অসহায় শিক্ষকদের অর্থ বরাদ্দের নামে রুপালি ব্যাংকে একাউন্ট খুলে সেই টাকা নয় ছয় করেন তিনি । স্লিপ বরাদ্দ নিয়েও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ কোনো রকম নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না । তার কথামত যে শিক্ষকরা ঘুষ না দিলে আটকে রাখেন ফাইল। বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ । জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস , ভূক্তভোগী শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন নুর মোহাম্মদ । এরআগেও তিনি ত্রিশালে ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন । সেমসয় তার অপকর্ম , সিন্ডিকেট বানিয়ে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বদলী করা হয় । অভিযোগ ছিল, সেসময় তিনি বদলী বাণিজ্যেও মাধ্যমে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন । এবিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তার উপর । জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার কর্মকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন । শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে তাকে বদলী করা হয় । ২০১৬ সালে ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে সৈয়দ আলী নামের একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা যোগদান করেন । এই সৈয়দ আলীকে ত্রিশাল থেকে বিতারিত করতে নানা ফন্দি ফিকির আটেন নূর মোহাম্মদ । এরই ধারাবাহিকতায় বেনামে সৈয়দ আলীর বিরুদ্ধে নানান বানোয়াট অভিযোগ কওে এক পর্যায়ে তাকে বদলী করান । আহরে ত্রিশালে কি মধু ! আর কি মজা ! যা নিতে ত্রিশালে আবারও যোগদান করেন নূর মোহাম্মদ । জেলা শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে শিক্ষকদের হয়রানি শুরু করেন তিনি পূর্বরূপে। এসব করে হাতিয়ে নেন মোটা টাকা । তিনি অফিসে আসেন অনিয়মিত । কালে ভদ্রে অফিসে আসলেও বেলা ১২টার পর । শিক্ষকদের ফোন রিসিভ করেন না । মাঝে সাঝে ফোনে পাওয়া গেলেও জানিয়ে দেন, তিনি ব্যস্ত আছেন জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মিটিংএ অথবা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ।
অভিযোগ রয়েছে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দাপিয়ে বেড়ান । এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দাবি, মিটিংই হয়নি। তিনি কি করে মিটিংএ থাকেন ?
প্রশ্ন উঠেছে ইতিপূর্বে আন্দোলনের মুখে তাকে বদলী করা হলেও আবারও কি করে থাকছেন বহাল তবিয়তে এই শিক্ষা কর্মকর্তা ।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা সখিপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ । দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে সখিপুরে কোটি টাকার ফিসারি গড়ে তুলেছেন , কিনেছেন জমি জমাও। ত্রিশালে যাতায়াত করেন কমপক্ষে ৩৫ লাখ টাকা দামের প্রাইভেটকারে চড়ে। এমন গাড়ি শীর্ষ কর্মকর্তারাও ব্যবহার করেন না । সামান্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হয়েও ঘুষ দুর্নীতির অবৈধ অর্থের বিলাশী জীবন সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে । সূত্রের দাবি, ত্রিশালে ২ বারে কমপক্ষে ৩৫ লাখ টাকার দুর্নীতি করেছেন নুর মোহাম্মদ । ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে । যার তদন্ত চলছে । এব্যাপারে নুর মোহাম্মদের বক্তব্য নিতে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি ।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest