বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

পায়ের রগ কাটলেন স্বামী, ধরে রেখেছিলেন শ্বশুর

পায়ের রগ কাটলেন স্বামী, ধরে রেখেছিলেন শ্বশুর

বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর ও স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধুর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গেল শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বানারীপাড়া পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডে দুলাল বালীর বাসার সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে এ বর্বর ঘটনা ঘটে। তবে স্বামী ও শ্বশুরের দাবি পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিল হ্যাপী।

ঘটনা জানতে পেরে বানারীপাড়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করতে রোববার (০৪ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। তবে আত্মগোপন করায় তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের হাওড়াবাড়ি এলাকার হাসান বালীর ছেলে ধান ব্যবসায়ী রাসেল’র সঙ্গে একই এলাকার আ. রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে হ্যাপীর ১০ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রিমি (৯) ও রাতুল (সাড়ে ৩) নামের দু’টি সন্তান রয়েছে। হ্যাপীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হ্যাপীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলো রাসেল। স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটাতে হ্যাপী তার স্বর্নালঙ্কার বন্ধক রেখে ৩৬ হাজার টাকা দিলেও বাকী টাকার জন্য তার ওপর নির্যাতন অব্যাহত থাকে। হ্যাপী জরায়ু সমস্যার কারনে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বামী রাসেলকে বার বার অনুরোধ করার পরে গত শুক্রবার তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে শুধু আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই দিন রাতে অসহ্য যন্ত্রনায় কাতর হ্যাপী উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে অনুরোধ করার পরেও সে চিকিৎসা করাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে চিকিৎসা করাতে বলায় এ নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এদিকে, শনিবার সকালে অসুস্থ হ্যাপী শিশু সন্তান রাতুলকে নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল ও তার পিতা হাসান বালী হ্যাপীর পিছু নেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বানারীপাড়া পৌর শহরের হাইস্কুল সংলগ্ন দুলাল বালীর বাড়ির সামনের রাস্তায় রিক্সার গতিরোধ করে তারা হ্যাপীকে টেনেহিচড়ে নামিয়ে বেদম মারধর করে এবং এক পর্যায়ে শ্বশুর হাসান বালী জাপটে ধরে রাখে এবং স্বামী রাসেল ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এসময় হ্যাপী ও তার শিশু পুত্রের আর্তচিৎকারে পথচারিরা জড়ো হলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা হ্যাপীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হ্যাপী আক্তার বলেন, ‘তারা বিয়ের পর থেকে অনেক নির্যাতন করেছে। ছোট ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সহ্য করে গেছি। আর নয়, বানারীপাড়া থানার ওসির সঙ্গে মুঠোফোনে আমার কথা হয়েছে। তাকে সব ঘটনা বলেছি। তিনি মামলা করতে বলেছেন। আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ এব্যাপারে জানতে রাসেল বালীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি ধান চালের ব্যবসা করি। ব্যবসার কারণে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। দূরে গেলে সেদিন রাতে আর ফেরা হয় না। সেই সুযোগে স্ত্রী হ্যাপী অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে গড়ে। তার একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে রয়েছে। শনিবার সে তার এক পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর উদ্দেশ্যেই ব্যাগে কাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পিছু নিলে দেখে ফেলে। পারে হ্যাপীকে বাধা দিতে গেলে আমাকে গালাগালি ও মারধর শুরু করে। বাবা তাকে থামাতে হাত ধরেছিলেন। এ সময় হ্যাপী আমাকে লাথি মারে। রাগে আমি ছুরি দিয়ে বাম পায়ে আঘাত করি।’

স্বামীর অভিযোগ প্রসঙ্গে হ্যাপী আক্তার বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে পরকীয়ার যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত, সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আমাকে রাসেল ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি যেন মামলা না করি রাসেল সেজন্য এসব রটাচ্ছে।’ অন্যদিকে, বানারীপাড়া থানা পুলিশের ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর রাসেল বালী ও তার বাবা হাসান বালী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হ্যাপী আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest