রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

পদ্মাপাড়ে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ

পদ্মাপাড়ে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুর্গম চরে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই কাজটি করে যাচ্ছেন অসাধু জেলেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে অপেক্ষাকৃত কম টাকায় বড় আকৃতির ইলিশ কেনার জন্য পদ্মাপাড়ে ভিড় করছেন নারী-পুরুষরা।

জানা যায়, পদ্মা নদী থেকে গোপনে ধরা ইলিশ তীরে এনে বিক্রি করছেন জেলেরা। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪শ-৫শ টাকায়। এছাড়া একটু ছোট আকৃতির ইলিশ অনেকটাই পানির দামে পাওয়া যাচ্ছে। নদীর পাড়ে এনে এক হালি, দুই হালি করে একসঙ্গে বিক্রি করা হয় এসব ইলিশ।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলার চরজানাজাত ইউপির শেষ সীমানায় অসাধু জেলেরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা ইলিশ বিক্রি করেন। শিবচরসহ দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সস্তায় ইলিশ কিনতে দুর্গম চরাঞ্চলে আসে। বিস্তৃর্ণ চর এলাকা থেকে হেঁটে আবার ট্রলার নিয়েও মাছ কিনতে আসে অনেকে।

স্থানীয়রা জানান, গত মৌসুম থেকেই ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের অভিযান চোখে পড়ার মতো। এবারো প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই জেলেদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরপরও কেউ কেউ গোপনে মাছ ধরছে। এক শ্রেণির ক্রেতারা তা কিনতে দুর্গম চর এলাকায় আসছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত পদ্মা নদীসহ জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রশাসনের অভিযান চলছে। গত ছয়দিনে ইলিশ ধরার দায়ে পদ্মা নদীর শিবচর অংশে অভিযান চালিয়ে ৬৯ জন জেলেকে আটক করে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ধ্বংস করা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার মিটার জাল। যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ সময় জরিমানা আদায় করা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার টাকা। জব্দ করা হয়েছে ১৪০ পিস ইলিশ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার শিবচর উপজেলায় উপনির্বাচন থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত ছিলেন। এ জন্য মঙ্গলবার শিবচরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কিছু অসাধু জেলে গোপনে ইলিশ ধরে বিক্রি করছেন। তবে আমরা ইলিশ সংরক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest