মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

নওহাটা তৃনমূল সিলেকশন ভোট নিয়ে প্রার্থীদের অসন্তোষ প্রকাশ

নওহাটা তৃনমূল সিলেকশন ভোট নিয়ে প্রার্থীদের অসন্তোষ প্রকাশ

 লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী পবা নওহাটা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা বানচাল করে তৃনমূল মেয়র পদপ্রার্থী সিলেকশন ভোট করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ নির্বাচনে অন্য প্রার্থীর উপস্থিতি ছাড়াই প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারি খান। তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে নওহাটা মহিলা কলেজে পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার কথা ছিলো। সভার এক পর্যায়ে আসন্ন পবার নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল ভোট গ্রহনের কথা তোলেন ফায়সাল আহমেদ রুনু। তবে পৌর নির্বাচনে প্রার্থীতা জানান দেওয়া ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন না। রুনুর এমন কথায় সভা বয়কট করে বের হয়ে আসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারি খান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানসহ নেতাকর্মীরা। আবদুল বারি আরও জানান, পৌর আওয়ামী লীগের ৬৫ জন সদস্যের মধ্যে সভায় ৩৪ জন উপস্থিত ছিলেন। এরপর কলেজের গেট বন্ধ করে তৃণমূল নির্বাচন করেন। যদিও এ তৃণমূল সিলেকশন নির্বাচনের কোন কথা ছিলো না। রুনু একক প্রভাব খাটিয়ে এ নির্বাচন করেছে। এছাড়াও সভাপতি আব্দুল বারি খান বলেন, তাকে ঘরবন্দী করে রাখা হয় এবং এক পর্যায়ে সে কৌশল খাটিয়ে বের হয়ে দ্রুত নওহাটা মহিলা কলেজ ত্যাগ করে। এ নির্বাচনে ভোট দেখানো হয়েছে- ফয়সাল আহমেদ রুনু (৩৫) ভোট, আব্দুল বারী খাঁন (২৩) ভোট, হাফিজুর রহমান হাফিজ ( ১) ভোট, মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল ও সারওয়ার জাহান (০) ভোট পেয়েছেন। তবে এ তৃণমূল সিলেকশন নির্বাচন নিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি পৌর নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যেতো। তবে এই ঘটনা মোটেও ঠিক নয়। এটি আপত্তি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, নওহাটা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করার উদ্দেশ্যে সভার আয়োজন করি কিন্তু আসন্ন নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনের তৃণমূল ভোট গ্রহনের কথা উঠলে আমি অসম্মতি জানিয়ে সভা থেকে চলে আসি। তিনি আরও জানান, পৌরসভা আওয়ামিলীগের কমিটিতে নাই এমন লোক ও ভোট দিয়েছে এবং অনেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই ভোট বয়কট করেছে। হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, তৃনমুল হোক আর যে কোন ভোট হোক পুর্বে নির্ধারিত তারিখ ঠিক করতে হবে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ভোট গণনার সময় সকল প্রার্থী র এজেন্ট এবং প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে, ফলাফল ঘোষনার পর রেজুলেশন করে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাক্ষর পর সেটা কার্যকারীতা পায়। সেখানেই আমাদের অনুপস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কোন সাক্ষর ছাড়া সাদা কাগজে রেজুলেশন করে যেটা কারো কাছেই গ্রহনযোগ্য নয়। এছাড়াও মুস্তাফিজুর রহমান মানজাল জানান, নওহাটা পৌর আওয়ামী লীগের ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে ১১ জন মারা গেছেন এবং ১৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন, তাহলে কিভাবে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এটা একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি, এ বিষয়ে আমি আমার দলীয় হাইকমান্ডের সাথে কথা বলবো । নির্বাচন হোক আর যায় হোক গঠনতন্ত্রের বাহিরে একচুল যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মেয়র প্রার্থী ফয়সল আহমেদ রুনু প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তৃণমূল ভোট চেয়ে আমি তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অংশ গ্রহণ করি। মূলত সবাই ভোট চেয়েছে তখন যারা উপদেষ্টা আছেন তারা সম্ভবত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেই ভোট দিয়েছেন। ভোট শুরু হওয়ার আগে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান কেন্দ্র থেকে কোন কারণ ছাড়া বের হয়ে যায়। এরপর ভোটে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারি খান অংশ গ্রহণ করলেও ভোট কম পাওয়ার কারণে তিনি মধ্যে ফলাফল জেনে বেরিয়ে আসেন। আমি প্রথম থেকে বলছি দল বা নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন আমি মেনে নিবে এবং সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো। তবে নেত্রী যাচাই বাছাই শেষে আমাকে মননোয়ন দিবেন এটি আমি বিশ্বাস করি। এসময় ফয়সল আহমেদ রুনু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি গোষ্ঠী আমার জনপ্রিয়তা দেখে ইশ্বার্নিত হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest