শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা, চলাচলে ভোগান্তি

দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা, চলাচলে ভোগান্তি

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া: সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নে দির্ঘদিনধরে গ্রামীণ রাস্তাগুলো বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে চলতি বর্ষায় ইউনিয়নের সকল রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে লক্ষীপুর ইউনিয়নের যোগাযোগ রাস্তা, রাবারড্যাম্প থেকে বাংলাবাজার, বাংলাবাজার থেকে চকবাজার, বোগলাবাজার থেকে ভাংগাপাড়া, বোগলাবাজার থেকে বক্তারপুর চলাচলের অযোগ্য হয়েগেছে। ইউনিয়নের এরুয়াখাই স্কুল হইতে বড়কাটা কাঁচা রাস্তা, জামাল পয়েন্ট হইতে নোয়াগাঁও, চকবাজার হইতে বাংলাবাজার, এরুয়াখাই স্কুল হইতে সুলতানপুর গ্রাম পর্যন্ত, চামতলা মাদ্রাসা হইতে এরুয়াখাই রাস্তা , চামতলা মাদ্রাসা হইতে লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল, সুড়িগাও হইতে লিয়াকত গঞ্জ স্কুল , নোয়াপাড়া হইতে রবারড়াম , তিলুরা থেকে হরিনাপাটি , চকবাজার থেকে রনভুমি, তিলুরা বড় রাস্তায থেকে বড়কাটা , লক্ষীপুর থেকে নতুন বাজার,দেলোয়ার নগর গ্রামের রাস্তাসহ ইউনিয়নের প্রায় সকল রাস্তাই চলাচলের অযোগ্য। প্রতিদিন উপজেলা শহরের যাতায়াত করা হাজারও মানুষ ঝুকি নিয়েই চলাচল করছে । এমন চিত্র শুধু যে গ্রামীণ রাস্তায় তা নয় প্রায় রাস্তায় একই চিত্র দেখা গেছে। রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোন সংস্কার না করায় রাস্তার দু’পাশ ভেঙ্গে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে,বর্ষার কারণে রাস্তার মাঝখান গুলোতে তৈরী হয়েছে বড়বড় গর্ত। গর্তের কারণে ছোট-ছোট অটোবাইক,মটর সাইকেলে করে চলাচলরত সাধারণ মানুষ প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ভোগান্তির শেষ হচ্ছেনা গ্রামীণ রাস্তায় চলাচলরত মানুষগুলোর।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে যাতায়াত ব্যবস্থা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও সিএনজি ব্যবহার হয়। অনেক কষ্টে ভাঙ্গা চুরা রাস্তায় বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করে এলাকার মানুষ। বর্ষা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ওই সব বাহন। মানুষকে চলাচল করতে হয় পায়ে হেঁটে। সামান্য বৃষ্টির হলে কাঁদামাটিতে একাকার হয়ে যাতায়াত অযোগ্য হয়ে পরে রাস্তাগুলো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিনেও রাস্তা উন্নয়ন বা সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা নদীর মতো হয়ে যায়। দূর থেকে তাকালে নদী মনে হয়। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে মানুষ চলাই কঠিন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে সর্বদায় স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চরম কষ্টে প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এ যেন ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তাটি উন্নয়ন বা সংস্কার হলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচলের পথ সুগম হবে।

লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল
হক জানান,পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত লক্ষীপুর, বাংলাবাজার, নরসিংপুর, বোগলাবাজার ও রংগারচড় ইউনিয়নহ সীমান্ত অঞ্চলে প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে রাস্তা নষ্ঠ হয়ে যায়।এ বছর চার চারটি বন্যায় গত তিন বছরে রাস্তাঘাট করেছি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।আপনারা জেনে অবাক হবেন এ বছর মাঠগাও আসাউরা রাস্তা ৩৭ লক্ষ দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল একমাসের মধ্যেই পাহাড়ি ঢলে বিলীন হয়েগেছে।এ অঞ্চলে পাহাড়ি ঢলকে মাথায় রেখে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে এটা জনগনের দাবী।ইতিমধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয় কে অবগত করানো হয়েছে।বোগলাবাজার ভাংগাপাড়া রাস্তা,রাবারড্যাম্প বাংলাবাজার রাস্তাসহ লক্ষীপুর ইউনিয়নের রাস্তা মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনের সাথে অনেক আগেই যােগাযােগ করে দ্রুত সড়ক মেরামতের তাগিদ দিয়েছেন।ইতিমধ্যে চকবাজার-লিয়াকতগঞ্জ রাস্তাটি ১কোটি ৬০ লক্ষ টাকা,মাঠগাও -দৌলতপুর রাস্তা ২ কোটি ২০লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করােনা পরিস্থিতির কারণে এই সড়কসহ উপজেলার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখন পিছিয়ে পড়েছে। একটা ইউনিয়নের সাথে উপজেলা জেলার সাথে সংযোগ রাস্তা থাকবেনা এটা হতে পারেনা রাবারড্যাম্প বাংলাবাজার চকবাজার বক্তারপুর দেলোয়ার নগর রাস্তায় টেকসই উন্নয়ন করতে হবে।।খুব দ্রুত রাস্তাঘাটের সংস্কার কাজ করা হবে বলে আশারাখি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest