বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১৩ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল: অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল: অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া

স্টাফ রিপোর্টার :
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সেবায় দীর্ঘদিন যাবত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। ফলে হাসপাতালের সিঁড়িতে সিঁড়িতে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সূত্র মতে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সেবায় অনেকেই জুনিয়র হয়েও একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মিডওয়াইফারি মহাপরিচালক নার্সিং (অতিরিক্ত সচিব) তন্দ্রা সিকদার স্মারক নং- ডিজিএনএম/শাও/৪টি-১৪/২০১৬/৩৩২৭, ১৩.০৬.২০১৭ইং তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় যে, দুই বছর পরপর ওয়ার্ড ইনচার্জ পরিবর্তনের কথা বলা হলেও কোনো প্রকার দৃশ্যমান ফলাফল লক্ষ্য করা যায়নি এ হাসপাতালে।

অপরদিকে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মিডওয়াইফারি ও নার্সিংয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিকা আক্তার স্মারক নং-৪৫.০৩.০০০০.৩০১.১১.০০১.১৯/৩৮৭/১(১০০) ১৬.০৬.২০২০ইং তারিখে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন শিক্ষা ও প্রশিক্ষন) পিএ আব্দুল হাই স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ওয়ার্ড ইনচার্জ পরিবর্তনের কথা বলা হলেও টাঙ্গাইল হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক নতুন ওয়ার্ড ইনচার্জের তালিকা তৈরি করে লিখিত আকারে স্থায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা করেন।

কিন্তু সেবা তত্ত্বাবধায়কের তৈরিকৃত ওয়ার্ড ইনচার্জের তালিকার মধ্যে ডিজিএনএম কর্তৃক যে পরিবর্তন ঘটার কথা, ঘটছে তার উল্টোটা। এ নিয়ে সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও বিতর্কিত নার্সিং ইনচার্জের তালিকা এবং বদলি নিয়ে সাধারণ নার্সদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে সাধারণ নার্সরা প্রতিবাদ করতে গেলে স্বঘোষিত নার্সিং সুপারভাইজার ও সিন্ডিকেট সদস্য এম এ হামিদ ও সৈয়দা শামীমাসহ (সুরমা) আরও দুইজন সেবা তত্ত্বাবধায়ক নাজমা পারভীনের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবাদকারীদের হুমকি দিয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।

হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স জানান, সিনিয়রদের অপমান ও অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে সিনিয়র জুনিয়রদের দায়িত্ব পালনে কোনো ভেদাভেদ নেই। এদের মধ্যে অনিয়মের মাধ্যমে লাল মামুদ ও মমতাজ বেগম নামের দুইজনকে ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে নার্সিং সুপারভাইজার অফিসের বাইরেও অনেক নার্স আছে যারা রাত্রীকালীন ডিউটি করেন না। এর কারণ সুপারভাইজার ইনচার্জ এম এ হামিদ শুধু তাদের দিনের বেলায় ডিউটি করার অনুমতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এম এ হামিদ নিজেকে স্বঘোষিত নার্সিং নেতাও দাবি করেন। এমনকি তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা জন্মগতভাবে পা বাঁকা শিশুদের প্লাস্টার করার নিয়ম ডাক্তারদের থাকলেও তিনি বাইরের লোকজন নিয়ে প্রতি রোগীর অভিভাবকদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে নার্সিং সুপারভাইজার ইনচার্জ এম এ হামিদ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও অনিয়ম প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও প্লাস্টার করা রোগীর অভিভাবকরা ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা দিলে সেটা গ্রহণ করেন বলে জানান। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সেবা তত্ত্বাবধায়ক নাজমা পারভীনের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest