বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সফল উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সফল উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম

আব্দুল বাশির,গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ) প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার অরণ্য কৃষি খামার উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম পড়াশুনা শেষ করে যখন, সবাই চাকুরীর পিছনে ছুটে,তখন চাকুরী ছেড়ে নিজের ভাগ্য ফেরানোর পাশপাশি অন্যের জন্য তৈরি করেছেন কর্মসংস্থান। প্রচন্ড অধ্যবসায় এবং একাগ্রতা থাকলে যে কোন অবস্থা থেকেই উন্নিতি করা সম্ভব তা তিনি করে দেখিয়েছেন। রফিকুলের বাগানে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, পেয়ারা, মাল্টা,ড্রাগন ও বিভিন্ন জাতের আম থোকায় থোকায় ঝুলছে। ২০০৫ সালে ৮ বিঘা জমি র্বগা নিয়ে গড়ে তুলেন পেয়ারা বাগান।গত ১০/১২ বছরে তিনি তার ব্যবসা ও বাগানের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন ।চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রের রুক্ষ ৮৪০ বিঘা জমিতে ফলের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চালাচ্ছেন রফিকুল ইসলাম। যা থেকে প্রতি বছরে ৫০/৬০ লক্ষ টাকা আয় করেন। যারা তার বাগানে কাজ করে ২৫০ জন শ্রমিক এখন স্বাবলম্বি। চাকুরী ছেড়ে নিজের পাশাপাশি এদের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি। ফলের বাগান গড়েই থেমে থাকেননি তরুণ এই উদ্যোক্তা । আমদানি নির্ভরতা কমাতে বরেন্দ্রর রুক্ষ মাটিতে বিদেশি এবং বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় ফলের চাষ সম্প্রসারণে করছেন গবেষণাও । এরই মধ্যে সাড়ে চার বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন দেশি বিলুপ্ত প্রায় শরীফা ফলের বাগান। কাজ করছেন কমলা,রাম্বুটান, জাপানি পার্সিমনসহ আরও নানা দেশি- বিদেশি ফল নিয়ে। তার পাশপাশি মৎস্য ও গরুর খামার নিয়ে তিনি কাজ করে চলেছেন । রফিকুল ইসলামের মাল্টা বাগেনের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি কিছুদিন আগে বরেন্দ্র অঞ্চলে বছরে শুধুমাত্র আমন ধান ছাড়া তেমন কোন ফসল ফলানো যেত না।ধান ফলানো গেলেও অতি বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ ধান ভাল ফলন পাওয়া যেত না। এতে শ্রমিকেরা ধান মৌসূমে মাস খানেক কাজ করতে পারতো।ছেলেমেয়ে নিয়ে ঠিক মত তারা তাদের সংসার চালাতে পারতো না। রফিকুলের বাগান হওয়ার ফলে তাদের রোজকারের জায়গার দ্বার উম্মোচন হয়েছে। জেলা কৃষি স্মপ্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন তরুণ এই উদ্যোক্তা নিজের স্বপ্ন পুরণ করে বেকার ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা করে দিয়েছেন। বরেন্দ্রের রুক্ষ মাটিতে সবুজায়ন সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।রফিকুল ইসলাম দেখিয়ে দিয়েছেন কৃষিকাজ করে যে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া যায়। রফিকুল ইসলামের সাথে বাগান দেখা শুনা করার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, আমি নিজেই আমার সকল বাগানের প্রজেক্ট দেখাশুনা করি। কিন্তু এতবড় প্রজেক্টের বাগান প্রতিদিন দেখাশুনা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই যদি উন্নত দেশের মত আমাদের দেশে বিভিন্ন উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারি সহায়তায় পেতাম, যেমন বাগান মনিটরিং এর জন্য ড্রোন ব্যবহার ,মালামাল স্থানাস্তর জন্য প্রযুক্তি এবং বাগানে ভালো ভাবে যেন কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারি সেক্ষেত্রেও উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাল ফলন ফলাতে পারতাম। আমি এর থেকেও পরবর্তীতে আরও বেশি প্রজেক্ট করার সাহস পেতাম। এতে কারে আমি আমার লেবার কম দিয়ে ,কম পরিশ্রমে অনেক লাভবান হতে পারতাম।তাই সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন উন্নত দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এ কৃষিককে উদ্ভিদ্য করা হোক এবং কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষি সরঞ্জামাদি দিয়ে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করা হোক।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest