শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর গাড়িচালক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর গাড়িচালক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপির মাইক্রোবাস চালক রফিকুল ইসলামকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর র‌্যাব-১৪। র‌্যাব ক্রেতা সেজে রফিকুলকে ৬০০ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে আটক করে রৌমারী থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশের হাতে আসামিকে সোপর্দ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির চালক মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় রৌমারীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ বিভাগ। ঘটনা ধামাচাপা নিতে মাঠে নেমেছে একটি চক্র। অজানা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সম্পর্কিত খবর

জামালপুর র‌্যাব-১৪ সিপিসি-১ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি এম এম সবুজ রানা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি বোয়ালমারী গ্রামের মৃত বাবুর উদ্দিনের পুত্র ড্রাইভার রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব সদস্য ক্রেতা সেজে সোমবার বিকাল থেকে জন্তিরকান্দা এলাকায় ফাঁদ পাতে। সন্ধ্যার পর রৌমারী হতে দেওয়াগঞ্জ সড়কের মেসার্স রুনা মটরস এন্ড অটো মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এর সামনে রফিকুল মাদকের চালান ডেলিভারী দিতে আসলে র‌্যাব ৬০০পিচ ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করে। জব্দ করা হয় রফিকুলের ব্যবহৃত মোবইল সেট। র‌্যাবের এসআই কামাল হোসেন বাদি হয়ে রৌমারী থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশের হাতে আসামিকে সোপর্দ করে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জিয়াউর রহমান জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি মহোদয়ের ‘হাইছ মাইক্রোবাস’ চালাতো ড্রাইভার রফিকুল ইসলাম। এখন এই গাড়িটির দেখভাল করেন মন্ত্রীর চাচাতো ভাই আক্তারুজ্জান বাবু। এই মাইক্রোবাসটি প্রায়ই মন্ত্রীর কথা বলে ড্রাইভার থানায় রেখে যেতো। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের মৃত বাবুর উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন এমপি’র চাচাত ভাই আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, মাইক্রোবাসটির মালিক মন্ত্রী মহোদয়। আমি রৌমারীতে ভাইয়ের হয়ে ব্যবসা ও গাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করি। আর নিরাপত্তার সার্থে গাড়িটি রাখা হয় রৌমারী থানায়। ড্রাইভার রফিকুল ইসলাম আগে থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল কিনা তা আমাদের জানা নেই। তবে সে এই গাড়িটি নিয়মিত চালাত। ভাইয়ের বিভিন্ন মালামাল ঢাকায় আনা নেয়া করতো। রৌমারীতে বিভিন্ন সরকারি ও মানব সেবার কাজে মাইক্রোবাসটি ব্যবহৃত হতো।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো.দিলওয়ার হাসান ইনাম রাতে বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৪ এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বাদী হয়ে ১৯১৮ সালের মাদক দ্রব্যনিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ১৪। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়াউর রহমান। তিনি স্বীকার করেন গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল আগে মন্ত্রীর গাড়ি চালাতো। এখন চালান কি না তা তিনি জানেন না। মঙ্গলবার আসামিকে কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল আদালতের মাধ্যমে রফিকুলকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মন্ত্রীর এই ড্রাইভার গাড়ি এবং ৬ হাজার ২০০ ইয়াবাসহ আটক হয়। পরে উচ্চ পর্যায়ের তদবিরে গাড়ি ছাড়িয়ে নেয়া হয়। একই সাথে মাদকের পরিমাণও কমে যায়। এ গাড়িটি প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০ বার ঢাকায় আপ-ডাউন করে। গাড়িতে জাতীয় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো থাকায় বরাবরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যেতো। আর গাড়ির গ্যারেজ ছিল রৌমারী থানা। মন্ত্রীর এ ড্রাইভারের সব অপকর্মের ঘটনা সবাই জানে, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। তাদের দাবি র‌্যাব ছাড়া থানা পুলিশ তাকে আটক করতে পারতো না।

তবে এ ব্যাপারে র‌্যাবের এএসপি এম এম সবুজ রানা পূর্বপশ্চিমকে বলেন, কে কি বললো তা জানি না। আমরা মামলায় যা উল্লেখ করেছি তাই প্রকৃত ঘটনা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি’র মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest