রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে আরও ৫টি স্কুল

কুড়িগ্রামে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে আরও ৫টি স্কুল

মোঃ এজাজ আহম্মেদ,রংপুর অফিস
পরপর তিনদফা বন্যার পর জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বেড়ে চতুর্থ দফা বন্যার সৃষ্টি হয়।ফলে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমর নদীর অববাহিকার মানুষজন পড়েন বিপাকে।যদিও গত তিন দিন হলো নদনদীর পানি কমে গেছে।এতে নাজেহাল হয়ে পড়া চর ও দ্বীপচরের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন।কুরিগ্রাম জেলার ৪ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি কমার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন।

এরই মধ্যে উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এছাড়াও হুমকিতে রয়েছে আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হুমকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ফুলবাড়ি উপজেলার মেকলির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার নন্দ দুলালের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সারডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এদিকে,বিদ্যালয়গুলো বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকগণ পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এমনিতে চলছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা তার উপর আবার নদী ভাঙ্গন যাকে বলে মারার উপর খাড়ার ঘা।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় গ্রামাঞ্চলে বাল্য বিয়ে বৃদ্ধির আশংকায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

সদর উপজেলার চর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যেই ধরলা নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে।বিলীন হওয়া এবং দীর্ঘ দিন করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। তবুও থেমে নেই নদী ভাঙ্গন।পানি কমা বাড়ার মধ্য দিয়ে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে এ জেলায়।

জানা যায়,গত এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে সদর উপজেলায় একটি,রৌমারীতে দুইটি,চিলমারীতে তিনটি এবং উলিপুর উপজেলায় চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ পড়াশুনা নিয়ে চিন্তিত।

শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশুনার স্বপ্ন এখন ধুলিস্যাতের পথে।নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে যাওয়ায় দারিদ্র্যপীড়িত জেলায় বাল্যবিয়ের হার বৃদ্ধির আশংকা এসব অভিভাবকের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরাজমান।বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় সেটি স্থানান্তর নিয়েও দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে আশংকা।শুধু বিদ্যালয় নয় মসজিদ,ঈদগাহ মাঠ, শত-শত বাড়িঘরসহ গাছপালা আবাদী জমি বিলিন হয়ে গেছে এসব নদ নদীতে।হুমকিতে রয়েছে সদর উপজেলা ও ফুলবাড়ি উপজেলার আরো ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান,ইতিমধ্যে ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলোর আপাতত টিনশেডে নির্মাণের জন্য প্রতিটিতে তিন লাখ টাকা করে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।পানি শুকিয়ে গেলে ভেঙ্গে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর স্থানান্তরসহ পুননির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest