বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

কখনো ওসি, এসপি; আবার কখনো ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার!

কখনো ওসি, এসপি; আবার কখনো ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার!

‘হ্যালো আমি বিভাগীয় কমিশনার বলছি, ঢাকা মেডিকেলে বেশ কিছু রোগীদের অপারেশন করাতে হবে। এক লাখ টাকা দিয়ে সহযোগীতা করুন। মোবাইল ফোনের অপর পাশে থেকে টার্গেট ব্যাক্তি জানালে এখন তো আমার হাতে টাকা নেই। ম্যানেজ করে দিন। আপনার উপকার হবে। যে কোনো সময় সহযোগিতা চাইলে করে দিবে। এখনই আমার বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠান’।
গত শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার এমন ফোন পেয়ে সত্যিই বিভাগীয় কমিশনার মনে করে ধার করে ৫৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। একইভাবে প্রতারণার জালে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতারক সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু উপজেলা চেয়ারম্যান মতিন নয়, এমন অভিযোগের অন্ত নেই প্রতারক শেখ মোঃ সোহেল হোসেন ওরফে ইমদাদুল হক সোহেল ওরফে সোহেল রানার বিরুদ্ধে।
প্রতারক সোহেল কখনো ডিসি, কখনো ওসি, আবার কখনো এসপি পরিচয় নিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে নতুন নতুন প্রতারণার ফাঁদ আকতেন এই প্রতারক।
গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন মোহাম্মদীয়া গার্মেন্টসের পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চলকর তথ্য বেরিয়ে আসেন।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা চেয়ারম্যান মতিন সরকার বলেন, সোহেল প্রতারণার ফাদে ফেলে ৫৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। নিজেকে বিভাগীয় কমিশনার বলে পরিচয় দেন। আমি বিশ্বাস করে তাকে টাকা পাঠাই। ওই প্রতারক বলেছে বেশ কয়েক লাখ টাকা লাগবে। তখন আমার কাছে ১ লাখ টাকা দেওয়ার অনুরোধ করলে ৫৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেই। আর আমার ছেলে ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপর থেকে সোহেলের নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তখন আমি ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মৌখিকভাবে জানাই।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে খিলক্ষেত এলাকার জাকির হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে ফোন করেন সোহেল। নিজেকে খিলক্ষেত থানার ওসি পরিচয় দিয়ে তার কাছে অসহায় রোগীদের সহযোগিতার জন্য ২০ হাজার টাকা চান ওই প্রতারক। তখন ওই ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে খিলগাঁও থানার ওসি’র সরকারি নাম্বারে ফোন দেন ব্যবসায়ী জাকির। তখন পুলিশ প্রতারক সোহেলের নাম্বার ট্র্যাকিং করেন। পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে গত বুধবার সকালে তাকে খিলক্ষেত থেকে গ্রেফতার করে। ওই দিন পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিপন কুমার বলেন, প্রতারক সোহেল ক্ষণে ক্ষণে প্রতারণার ধরণ পরিবর্তন করতেন। খুবই ধুরন্ধর এই প্রতারক একেক সময় একেক নাম্বার ব্যবহার করতেন। একবারের বেশি মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন না এই প্রতারক। এছাড়াও এ চক্রের আরো সদস্য রয়েছে কি না তা খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, সোহেল কখনো মিরপুর, কখনো উত্তরা আবার কখনো সভারসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকতেন। তিনি এক মাসের বেশি এক স্থানে বাস করতেন না। টাকাওয়ালাদের টার্গেট করতে ফাঁদ পেতে ফোন দিতেন প্রতারক সোহেল।
খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, সোহেল বিশ্বমানের প্রতারক। যখন যে পরিচয় দিলে চলতে পারেন সেই পরিচয় দিতেন তিনি। কখনো ডিসি, আবার কখনো এসপি, ওসি আবার কখনো বিভাগীয় কমিশনার পরিচয় দিতেন। নানা কৌশলেই চলতেন এই প্রতারক।
এই প্রতারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজার, খুলনা, চট্টগ্রাম, সাভার থানায় একধিক মামলা রয়েছে।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest