শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

‘ওরা অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি সম্ভ্রমটুকু রক্ষা করতে পেরেছি’

‘ওরা অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি সম্ভ্রমটুকু রক্ষা করতে পেরেছি’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় দেশ। এমন ঘটনাকে কিসের সঙ্গে তুলনা দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না নেটিজেনরা। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন অনেকে, ক্ষোভ প্রকাশ করার ভাষাও যেন খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

এ ঘটনার এক মাস পর যখন সেই নৃশংস ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে উদ্ধার করা এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করাসহ পুলিশ র‍্যাবের নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে।

নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নারী পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নির্যাতনের মুখেও সম্ভ্রমটুকু রক্ষা করতে সক্ষম হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তের বর্ণনা তুলে ধরে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত নারী ওনাকে আমরা একাধিকবার প্রশ্ন করেছিলাম, উনি বলেছেন যে, ওরা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি আমার সম্ভ্রমটা রক্ষা করতে পেরেছি। কিন্তু তারা এই ভিডিওটা করে ফেলেছে। এই ঘটনার পরও তারা আমাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেয় যে, তুমি এসব করো, তা না হলে ভিডিও ফাঁস করে দেবো। এবং শেষ পর্যন্ত তারা ভিডিও ছেড়ে দিয়েছে।’

ঘটনার এতদিন পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমেই তা পুলিশের নজরে এসেছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তাদের নজরে আসে। সেই ভিডিওকে ভিত্তি করে প্রথমে ঘটনাস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা তারা করেন।

 

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ঘটনাস্থল এবং এলাকার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে দুই তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তারা নোয়াখালী সদরের একটি হাউজিং এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে উদ্ধার করতে পারেন। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধারের পর মানসিক বিপর্যয় কাটানোর জন্য ক্ষতিগ্রস্তকে প্রথমে কাউন্সিলিং করা হয়েছে। এরপর একটা পরিবেশ তৈরি হলে তখন তারা ঘটনা সম্পর্কে জেনেছেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তের কাছ থেকে। উনি যে তথ্য বা বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে এটা এক মাস আগে অর্থাৎ গত ২রা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পরে এশার নামাজের আগ মুহুর্তে ঘটনাটি ঘটেছে। ওনাকে আগে প্রলোভন দেয়া হয়, কুপ্রস্তাব দেয়া হয়, সেটাতে তিনি রাজি ছিলেন না। তখন এলাকার যারা এই কালপ্রিট, তারা টিনের ঘরের দুর্বল দরজা বাইরে থেকে লাথি দিয়ে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রবেশ করার পর ক্ষতিগ্রস্তে হাজবেন্ডকে মারধোর করে একপাশে ফেলে রাখে। আর তার সাথে অবৈধ কাজ করার জন্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভিডিওটা দেখলেই বোঝা যায় এবং আমরা তাকে একাধিক বার প্রশ্ন করেছিলাম। উনি বলেছেন, আমাকে চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমি সম্ভ্রমটা রক্ষা করতে পেরেছি।

পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা ঘটনার ভিডিও করে পরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরও একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। এছাড়া আরও নানা রকম হুমকি দেয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী পুলিশকে কিছু জানায়নি। এখন ক্ষতিগ্রস্তের বর্ণনা অনুযায়ী দু’টি মামলা করা হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল করার জন্য একটি মামলা হয়েছে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। আরেকেটি মামলা হয়েছে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায়।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তকে শারীরিক নির্যাতন, মারধর এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া তার গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাদের চিহ্নিত করেছে, এমন নয় জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার জন্য পুলিশ-র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।


Comments are closed.

© All rights reserved © 2017 24ghontanews.com
Desing & Developed BY ThemeForest